
মোঃ ফয়েজ আহমেদ,বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া প্রতিনিধি।।
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা ১ নং রাজাপুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের রাজাপুর পাইকোঠা সংযোগস্থল রেল ক্রসিং পূর্ব পাশে নির্মাণাধীন ১টি ব্রিজের কাজ অসম্পূর্ণ রেখে ঠিকাদার পলাতক থাকার অভিযোগ উঠেছে। এতে অন্তত ৭ গ্রামের প্রায় ৩০ হাজার মানুষের চলাচলের চরম বিপর্যয় দেখা দিয়েছে রাজাপুর – পাইকোঠা সড়কের ওপর রেললাইনের পূর্ব পাশে প্রায় ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ব্রিজটির কাজ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে শুরু হয়,কাজটি ২০২৬ সালের মে মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে কাজটি বন্ধ আছে। বুড়িচং উপজেলা এলজিইডি অফিসার এবং এলাকাবাসীদের তথ্য মতে কাজের ঠিকাদারিত্ব নিয়েছিলেন আরিফ এন্টারপ্রাইজের ঠিকাদার নিক্সন, বর্তমানে কাজের অর্ধেক রেখে উধাও ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান । এ ঘটনায় বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে ভুক্তভোগী এলাকাবাসী প্রতিবাদ সভা করে দ্রুত ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান।সভায় এলাকাবাসী বলেন, পুরাতন ব্রিজ ভেঙে নতুন ব্রীজ নির্মাণকাজ শুরুর সময় কোনো বিকল্প সড়ক রাখা হয়নি। ফলে রাজাপুর পাইকোটা, আশপাশের অন্তত ৭ গ্রামের মানুষ যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।বিশেষ করে ইস্কুল কলেজে পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীদের বিকল্প পথে ঘুরে যেতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে।সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্রিজের পিলারের আংশিক কাজ শেষ হলেও পাটাতন নির্মাণ হয়নি। বেরিয়ে থাকা রডে জং ধরেছে এবং চুরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। বিকল্প পথ না থাকায় অনেকেই কোমরসমান পানি পেরিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।এলাকাবাসীর প্রাণের দাবি অনতিবিলম্বে আমাদের ব্রিজের কাজ চালু করা হোক, কারণ অত্র এলাকার মানুষের যাতায়াতের রাস্তা এখন বন্ধ হয়ে গেছে, এবং ব্রিজের পার্শে চলাচলের জন্য যে রেলিংটি দেওয়া ছিল তাও ভেঙেছে, মানুষ চলাচলে প্রতিদিনই কোন না কোন দুর্ঘটনার স্বীকার হচ্ছে,ঠিকাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিভিন্ন সমস্যার অজুহাতে ফোন কেটে দেন। পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।উপজেলা প্রকৌশলী আলিফ আহমেদ অক্ষর জানান, বিষয়টি অবগত হয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে কাজটি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের অধীনে হওয়ায় বিস্তারিত তথ্য প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা দিতে পারবেন। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জুবায়ের হাসান বলেন, ‘ঠিকাদার দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ রেখেছেন এবং কাজের মান নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’