
তৌহিদ হোসেন সরকার।।
শ্রমিকের অবদানের তুলনায় রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ও বরাদ্দে বৈষম্যকক্সবাজারে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের দায়িত্বশীল সম্মেলনে এ কথা বলেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান তিনি আরও বলেন , ফ্যাসিবাদের আমলে মানুষ উন্নয়নের গল্প শুনেছে, এখনও সেই গল্পই শুনছে। কিন্তু দেশের উন্নয়নের চিত্রের সঙ্গে শ্রমিকের জীবনমানের বাস্তবতা মিলিয়ে দেখলে খুব বেশি পরিবর্তন চোখে পড়ে না।
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান কাঙ্ক্ষিতভাবে উন্নত হয়নি।শ্রমিকের জীবন মানউন্নয়ন নিয়ে তিনি বলেন,রাষ্ট্র এগিয়েছে, কোটিপতির সংখ্যা বেড়েছে, বহুতল ভবন ও শিল্প-কারখানা বেড়েছে, জনশক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে; কিন্তু শ্রমিক ও কৃষকের জীবনে সেই উন্নয়নের সুফল পৌঁছায়নি।অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, দেশে আড়াই কোটিরও বেশি কৃষক রয়েছে। কৃষি উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পেছনে তাদের অবদান অনস্বীকার্য। অথচ রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে যারা মাঠে কাজ করেন, বজ্রপাতে নিহত হলে তাদের পরিবার রাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পায় না। একজন শ্রমিকের মৃত্যুতে একটি পরিবার তার উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারায়, কিন্তু সেই পরিবারের আর্তনাদ শোনার মতো কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না।
তিনি বলেন, বিভিন্ন সরকার শ্রমিকের কল্যাণের কথা বললেও আন্তরিকতার সঙ্গে তাদের ভাগ্য পরিবর্তনে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। সম্প্রতি উপস্থাপিত জাতীয় বাজেটের ৯৮ পৃষ্ঠাজুড়ে উন্নয়নের নানা পরিকল্পনা থাকলেও শ্রমিকদের সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, বেকার ভাতা এবং কর্মহীন অবস্থায় আর্থিক সহায়তার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগের প্রতিফলন নেই।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে ৫৪টি বাজেট পাস হয়েছে, কিন্তু শ্রমিক কল্যাণে কখনোই উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। এবারের বাজেটেও শ্রম খাতের জন্য বরাদ্দ মাত্র ০.১৪ শতাংশ। শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত না করে শুধু বিভিন্ন কার্ড ও সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের সঙ্গে প্রহসন করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেন, দেশে সাড়ে সাত কোটি শ্রমিক থাকলেও মাত্র এক লাখ শ্রমিককে কার্ড সুবিধার আওতায় আনার প্রস্তাব বাস্তবসম্মত নয়। এতে শ্রমিকদের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত হবে না। তিনি আশা করেছিলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে এবারের বাজেটে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও জনমুখী পরিকল্পনা থাকবে। কিন্তু বাস্তবে আগের ধারার বাজেট প্রণয়নেরই পুনরাবৃত্তি হয়েছে।তিনি বলেন, সরকার মূল্যস্ফীতি কমানোর কথা বললেও বাজেটে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি কিংবা শ্রম অধিকার সুরক্ষার কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই। ফলে এই বাজেটে সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত হয়েছে দেশের সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ। যে সরকার শ্রমিকের কথা ভাবে না, তাকে প্রকৃত অর্থে জনবান্ধব সরকার বলা যায় না।
অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় হওয়া সত্ত্বেও এসব খাতে বরাদ্দ সবচেয়ে কম। অথচ দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নে শ্রমিকদের অবদান অপরিসীম। শ্রমিকদের অবদানের তুলনায় রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ও বরাদ্দের মধ্যে এখনো বড় ধরনের বৈষম্য বিদ্যমান।
কক্সবাজার জেলা শাখার উদ্যোগে দায়িত্বশীল সম্মেলনে
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কক্সবাজার জেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মাওলানা নূর আহমদ আনোয়ারী এবং কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মুজিবুর রহমান ভূঁইয়া।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি শামসুল আলম বাহাদুর।