
কুমিল্লার খবর রাজনৈতিক খবর।।।
কুমিল্লার রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ উদবাতুল বারী আবু। ছাত্র রাজনীতি দিয়ে শুরু হওয়া তাঁর রাজনৈতিক পথচলা সময়ের সঙ্গে বিস্তৃত হয়েছে যুবদল থেকে বিএনপির মহানগর পর্যায়ের নেতৃত্বে। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি। পাশাপাশি ২০২৬ সালে নবগঠিত কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কুউক) প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি।………ছাত্র রাজনীতি দিয়ে পথচলা……..প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদবাতুল বারী আবুর রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছাত্র রাজনীতি। তিনি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ছাত্র সংসদের রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেন। ১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তাঁর নেতৃত্বের বিষয়টিও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।পরবর্তীতে তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার সময় থেকেই সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তাঁর ভূমিকা কুমিল্লার বিএনপির রাজনীতিতে পরিচিতি পেতে শুরু করে।………যুবদলের নেতৃত্ব………..ছাত্রদলের রাজনীতি শেষে উদবাতুল বারী আবু যুক্ত হন যুবদলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে। তিনি কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২১ সালে ঘোষিত মহানগর যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতেও তাঁকে সভাপতি হিসেবে রাখা হয়।রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের সময় তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনাও সংবাদমাধ্যমে এসেছে। ২০১৪ সালের একটি প্রতিবেদনে তাঁকে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করে একটি মামলায় কারাগারে পাঠানোর তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল।এ ছাড়া ২০২২ সালে ২০১৮ সালের একটি মামলায় আদালতে জামিন না মঞ্জুর হওয়ার পর তাঁকে কারাগারে পাঠানোর খবরও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।তবে এসব মামলার বর্তমান আইনি অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য হালনাগাদ তথ্য না থাকায় সেগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করা সমীচীন নয়।…………মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক………….কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনের সময় উদবাতুল বারী আবু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান। ২০২২ সালে বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁকে কুমিল্লা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক করা হয়। একই কমিটিতে ইউসুফ মোল্লা টিপুকে সদস্যসচিব করা হয়েছিল।আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। দলীয় কর্মসূচি, সভা-সমাবেশ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে তাঁর নেতৃত্ব দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।………..মহানগর বিএনপির সভাপতি………….দীর্ঘ সাংগঠনিক পথচলার পর ২০২৫ সালে কুমিল্লা মহানগর বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি নির্বাচিত হন উদবাতুল বারী আবু। এর আগে প্রায় তিন বছর তিনি মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।পরবর্তীতে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে কুমিল্লা মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ নির্বাহী কমিটি ঘোষণার মাধ্যমে তাঁর নেতৃত্ব আরও আনুষ্ঠানিক রূপ পায়।………কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রথম চেয়ারম্যান……..উদবাতুল বারী আবুর রাজনৈতিক জীবনে ২০২৬ সালে নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত হয়। কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, তিনি গ্রেড-২ মর্যাদায় এ দায়িত্ব পালন করবেন।এর আগে ২০২৬ সালের মে মাসে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে নবগঠিত এই প্রতিষ্ঠানের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে উদবাতুল বারী আবুর দায়িত্ব গ্রহণ কুমিল্লার নগর উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে।………….নগর উন্নয়নের পরিকল্পনা….…….চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর উদবাতুল বারী আবু কুমিল্লাকে পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক নগর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম ৩৪১ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বিস্তৃত হবে। আগামী এক দশকের মধ্যে পরিকল্পিত নগরায়ণ, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে কাজ করার পরিকল্পনার কথাও তিনি জানিয়েছেন।……রাজনীতি ও প্রশাসনিক দায়িত্বের নতুন সমীকরণ…….উদবাতুল বারী আবুর বর্তমান অবস্থান কুমিল্লার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিসরে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। একদিকে তিনি একটি বড় রাজনৈতিক দলের মহানগর পর্যায়ের সভাপতি, অন্যদিকে নবগঠিত সরকারি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রথম চেয়ারম্যানতবে তাঁর চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগের প্রজ্ঞাপনে অন্য পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে।অর্থাৎ রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি নতুন প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ও দায়িত্ব পালনের ধরনও গুরুত্বপূর্ণভাবে পর্যবেক্ষণের বিষয়।…….রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও প্রত্যাশা……..ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে যুবদল এবং সেখান থেকে মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে উঠে আসা উদবাতুল বারী আবুর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো দীর্ঘ সাংগঠনিক পথচলা।কুমিল্লার রাজনীতিতে তাঁর সমর্থকদের কাছে তিনি একজন ত্যাগী ও সাংগঠনিক নেতা হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পাশাপাশি এখন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর কাজের ফলাফলও জনসাধারণের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।বিশেষ করে কুমিল্লার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, যানজট, সড়ক ব্যবস্থাপনা, খাল-জলাশয় সংরক্ষণ, আবাসন পরিকল্পনা ও পরিবেশ রক্ষার মতো বিষয়গুলোতে নতুন কর্তৃপক্ষ কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সেটিই হবে তাঁর বর্তমান দায়িত্বের বড় পরীক্ষা।……শেষ কথা…….উদবাতুল বারী আবুর রাজনৈতিক জীবন মূলত ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু হয়ে যুবদল এবং পরবর্তীতে কুমিল্লা মহানগর বিএনপির নেতৃত্বে বিকশিত হয়েছে। দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতায় তিনি মহানগর বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে পৌঁছেছেন। ২০২৬ সালে কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর কর্মজীবনে যুক্ত হয়েছে নতুন একটি অধ্যায়।এখন তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে কুমিল্লার নগর উন্নয়নের দায়িত্ব কতটা দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জনস্বার্থের সঙ্গে পালন করতে পারেন, সেটি প্রমাণ করা।