
চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি কুমিল্লা।।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিয়ের ৫ মাসের মাথায় জীবন দিলেন মিতু আক্তার(২০) নামে এক গৃহবধূ । নিহত মিতু মুরাদনগর উপজেলার গোয়াশাল গ্রামের কবির হোসেনের মেয়ে।সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে চৌদ্দগ্রামউপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের সামুকসার গ্রামের ভাড়া বাসার দরজা ভেঙ্গে লাশ উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ। এ ঘটনায় পালিয়ে গেছেন স্বামী আনোয়ার হোসেন। আনোয়ার একই ইউনিয়নের সমেশপুর গ্রামের ফরিদ উদ্দিনের ছেলে।মিতুর ভাই নিহাদ জানায়, স্থানীয় একটি বিস্কুট কারখানায় কাজের সুবাধে পরিবার নিয়ে আমরা চৌদ্দগ্রামের সামুকসার এলাকায় দুই বছর বসবাস করছিলাম। এখানে থাকাকালীন স্থানীয় আনোয়ার আমার বোনের উপর কুদৃষ্টি পড়ে। এক পর্যায়ে আমার বোনের সাথে জোরপূর্বক সম্পর্ক করে। আনোয়ার আমার পরিবারকে নানা হয়রানি ভয়-ভীতি দেখানো শুরু করে। আমরা বাধ্য হয়ে পরিবার নিয়ে নিজের গ্রামে চলে যাই। আমার বোনও পরিস্থিতির কবলে পড়ে বাধ্য হয়ে আনোয়ার সাথে সম্পর্ক করে। এরপর তারা বিয়ে করে।মাসখানেক আগে আমার বোন সুযোগ পেয়ে মোবাইলে জানায় তাকে নিয়ে আনোয়ার ভাড়া বাড়িতে থাকে সকালে তালা মেরে চলে যায়, রাতে ফিরে আসে তাকে প্রচন্ড মারধর করে। তালা মেরে যাওয়ার বিষয়ে কথা বললে তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে অত্যাচার শুরু করে। আমার বোন জানায়, আনোয়ার আগে বিয়ে করেছে তারা তার স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে।এলাকায় আনোয়ার প্রভাবশালী হওয়ায় বিষয়টি সমাধানের উপায় খুঁজে বের করার আগেই আমার বোনকে মেরে ফেললো ঘাতক আনোয়ার।বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানায়, আগের দিন রাতে আনোয়ার তিন-চারজন বন্ধু নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে মিতুকে নির্মমভাবে মারধর করে, লাঠি দিয়ে পায়ের তালুতে আঘাত করে। এক পর্যায়ে ঘরে তালা দিয়ে আনোয়ার তার বন্ধুদেরকে নিয়ে চলে যায়। সকালে ঘরে প্রবেশ করে মিতুর নিথর দেহ দেখে কৌশলে বাহির থেকে দরজার ছিটকারী লাগিয়ে বাড়ির মালিককে ডেকে বলে তার স্ত্রী দরজা খুলছে না । সবার নিকট প্রচার করে তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে।বাসার মালিক সামুকসার গ্রামের নজির আহম্মেদ বলেন, আনোয়ার তার স্ত্রীকে নিয়ে গত মাসে আমার বাসায় ভাড়ায় উঠে। গত রাতে আমি নাইট ডিউটি করে বাসায় এসে ঘুমিয়ে পড়ি। সকাল সাড়ে আটটার দিকে ভাড়াটিয়া আনোয়ার এসে আমাকে ডাকাডাকি করে বলে তার বউ দরজা খুলছেনা। এরপর খবর দিলে পুলিশ এসে দরজা ভেঙ্গে মেঝেতে পড়া অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে আনোয়ার পালিয়ে যায়।তথ্যটি নিশ্চিত করে চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই লিটন চাকমা বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক সুরতহাল তৈরী করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হবে। ময়নাতদন্ত করে বলা যাবে হত্যার কারণ।
ছোট মেয়ে মিতুকে হারিয়ে পুরো পরিবার শোকাহত হয়ে পড়ে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।