
নিজস্ব প্রতিবেদক।।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন। তিনি গতকাল সকালে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৯ পদাতিক ডিভিশনের অধীনে ৮ বীরের গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকায় আকস্মিকভাবে উপস্থিত হন। এরপর পুরো মহড়া এলাকা হেঁটে পরিদর্শন করেন। তিনি সেনাবাহিনীকে পেশাদারত্ব ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ কথা জানান। খবর বাসস। দেশের ইতিহাসে এ প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ এলাকায় সশরীরে উপস্থিত হয়ে মাঠপর্যায়ের সেনা সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটান।
জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, মহড়া চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ফার্ম বেস’-এর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও ইউনিটের কমান্ডিং অফিসারের (সিও) কাছ থেকে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও কৌশলগত প্রস্তুতি সম্পর্কে অবহিত হন। প্রধানমন্ত্রী একজন কমান্ডারের মৌখিক অপারেশনাল নির্দেশনা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সেনা সদস্যদের পরিচালিত একটি ‘রেইড’ মহড়া প্রত্যক্ষ করেন।এছাড়া যুদ্ধ ক্ষেত্রে সেনা সদস্যদের অবস্থান গ্রহণ, রণকৌশল, সমরাস্ত্রের ব্যবহার এবং বাস্তবধর্মী প্রশিক্ষণের বিভিন্ন দিক পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেনা বাঙ্কারে নেমে মহড়ায় অংশগ্রহণকারী অফিসার ও সেনা সদস্যদের সঙ্গে রণকৌশল নিয়ে মতবিনিময় করেন। এমনকি গাছের পাতার আড়ালে ছদ্মবেশে অবস্থানরত সেনা সদস্যদের কাছে গিয়েও তাদের খোঁজখবর নেন এবং দায়িত্ব পালনে উৎসাহ দেন।একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী মহড়ায় অংশগ্রহণকারী সেনা সদস্যদের জন্য প্রস্তুত করা তাৎক্ষণিক রান্না করা খাবার খান এবং তাদের সঙ্গে চা পান করেন। মাঠপর্যায়ে সেনা সদস্যদের সঙ্গে সরকারপ্রধান দীর্ঘ সময় কাটানোয় উপস্থিত সেনা সদস্যরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।পরে সেনা সদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের জনগণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপর গভীর আস্থা রাখে।’ জাতীয় সংকট ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর গৌরবময় ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি পেশাদার প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। জুলাই শহীদ জাহিদের মাকে চাকরির আশ্বাস প্রধানমন্ত্রী: ক্যান্সারে আক্রান্ত সন্তান নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আব্দুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমা তুজ জোহরা। গতকাল দুপুরে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ক্যান্সার আক্রান্ত মাহমুদুল্লাহ বিন জিসানকে সঙ্গে নিয়ে সাক্ষাৎ করেন তিনি। এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন।প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জিসানের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে মা ফাতেমা তুজ জোহরাকে চাকরির আশ্বাস দেন তিনি।’সুজন মাহমুদ জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন ফাতেমার বড় ছেলে আব্দুল্লাহ বিন জাহিদ। এর দুই সপ্তাহ পর জানতে পারেন তার ছোট ছেলে মাহমুদুল্লাহ বিন জিসান ক্যান্সারে আক্রান্ত। এর সাত মাস পর স্বামীকেও হারান তিনি। স্বামী-সন্তান হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন ফাতেমা। এ সময় অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ান বিএনপি চেয়ারম্যান ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তখন থেকেই ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনের তত্ত্বাবধানে জিসানের চিকিৎসা করা হয়।তিনি আতিকুর রহমান রুমনের মাধ্যমে জিসানের চিকিৎসার খোঁজ নিতেন। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তত্ত্বাবধানেই চলছে জিসানের চিকিৎসার যাবতীয় ব্যবস্থাপনা।