
নিজস্ব প্রতিবেদক।।
ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ একটি আদর্শ প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রত্যয়ে কুমিল্লার চন্দ্রিকা গীতা শিক্ষা কেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে শিশু-কিশোরদের মাঝে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার শিক্ষা, সনাতন ধর্মের আদর্শ এবং মানবিক গুণাবলির বিকাশে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে স্থানীয়ভাবে একটি আস্থার নাম হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বিকেল ৫টায় শিক্ষা কেন্দ্র প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ পরিদর্শন, মতবিনিময় ও সম্মাননা অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, সুধীজন এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে শিক্ষা কেন্দ্রটি এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা টিভি ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের জনপ্রিয় অভিনেতা দেবজিৎ ঘোষ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা কেন্দ্রের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা কেন্দ্রের কর্ণধার তিথি চক্রবর্তী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।অনুষ্ঠানের শুরুতেই অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছার মাধ্যমে আন্তরিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিরা শিক্ষা কেন্দ্রের শ্রেণিকক্ষ, পাঠদান কার্যক্রম, গীতা শিক্ষার পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্তরিকভাবে মতবিনিময় করেন এবং তাদের স্বপ্ন, লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।এ সময় অতিথিরা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ একজন মানুষকে প্রকৃত অর্থে আলোকিত করে। তারা শিক্ষার্থীদের অধ্যবসায়, সততা, দেশপ্রেম ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে শিক্ষা কেন্দ্রের কর্ণধার তিথি চক্রবর্তী প্রধান অতিথি দেবজিৎ ঘোষের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সমাজকল্যাণে তাঁর অবদান এবং শিক্ষা কেন্দ্রে আগমনের স্মৃতি ধরে রাখতেই এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।প্রধান অতিথি দেবজিৎ ঘোষ তাঁর বক্তব্যে বলেন, “জীবনের প্রকৃত সাফল্য শুধু খ্যাতি বা সম্পদ অর্জনে নয়; বরং একজন সৎ, আদর্শবান ও মানবিক মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার মধ্যেই প্রকৃত সফলতা নিহিত।” তিনি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অধ্যবসায়, শৃঙ্খলা ও নৈতিক মূল্যবোধকে জীবনের মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান।বিশেষ অতিথি অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা মানুষের চরিত্র গঠন, পারিবারিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং সমাজে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রতি আরও যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান।শিক্ষা কেন্দ্রের কর্ণধার তিথি চক্রবর্তী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য শুধু গীতা পাঠ শেখানো নয়; বরং এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তোলা, যারা ধর্মীয় জ্ঞান, নৈতিকতা, মানবিকতা ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ হবে। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদের চরিত্র গঠনে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার বিকল্প নেই। বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতি আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার এক অনন্য উৎস হয়ে থাকবে।”অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবকেরা জানান, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর সময়ে শিশু-কিশোরদের নৈতিক ও মানবিক বিকাশ নিশ্চিত করা বড় একটি চ্যালেঞ্জ। এ ধরনের ধর্মীয় ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম শিশুদের সুস্থ, সচেতন ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।শিক্ষার্থীদের মাঝেও ছিল উৎসাহ ও আনন্দের ছাপ। প্রিয় অতিথিদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য শোনা, তাঁদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করা এবং স্মরণীয় মুহূর্তের অংশ হতে পেরে তারা নিজেদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে।আয়োজকদের মতে, এই অনুষ্ঠান কেবল একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়; বরং ধর্মীয় শিক্ষা, সংস্কৃতি, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে ইতিবাচক চিন্তাভাবনা, আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত হবে।অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে চন্দ্রিকা গীতা শিক্ষা কেন্দ্রের পক্ষ থেকে উপস্থিত সকল অতিথি, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, শুভানুধ্যায়ী ও সহযোগীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও সংস্কৃতিচর্চার প্রসারে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।