
স্টাফ রিপোর্টার।।
আজ ৩০ মে ২০২৬। মহান স্বাধীনতার ঘোষক, স্বনির্ভর বাংলার স্থপতি বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা,বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী। আজকের এই দিনে ১৯৮১ সালে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে বিদেশী ষরযন্ত্রকারীদের এদেশীয় পথভ্রষ্ট একদল সামরিক
বাহিনীর দোসরদের সহায়তায় ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াকে হত্যা
করে বাংলাদেশে আবারও পরাধীনতার শীকল পরাতে ও বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে নস্যাৎ করার
চেষ্টায় লিপ্ত হয়। আজ ৩০ মে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাকালীন ছাত্র-যুব সংগঠক হিসাবে আমি শ্রদ্ধাভরে শহীদ
জিয়াকে স্মরণ করি। তার এই আত্মত্যাগ পরবর্তীকালে বাংলাদেশের রাজনীতিতে দেশের জনগনের মাঝে
ব্যাপক শ্রদ্ধা ও রাজনৈতিক দীক্ষায় সমুন্নত করে আজকের বিএনপি’র এই অবস্থান।
উল্লেখ্য, ৩০ মে ১৯৮১ সালে শহীদ জিয়ার হত্যাকে কেন্দ্র করে ঐদিন ঢাকার রাজপথে তৎকালীন সময়ে জিয়ার আদর্শের রাজনৈতিক ছাত্র-যুবক সহ সর্বস্তরের মানুষ এই হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ফেটে পরলে সামরিক বাহিনীর কুচক্রি মহলের হোতা এরশাদ এর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখলের পরিকল্পনা ধুলিস্যাৎ হয়। তৎকালীন উপরাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস ছাত্তারকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে বাধ্য হয়। পরবর্তীতে ১৯৮২ সালের ২৪ শে মার্চ তৎকালীন সামরিক বাহিনীর প্রধান হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ বিচারপতি ছাত্তারকে অপসারণ করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে সামরিক শাসন জারী করে। এরশাদ এর সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে শহীদ জিয়ার বিধবা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিএনপি’র নেতৃত্বে আসীন হয়ে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে বিএনপিকে পুনর্গঠনের পাশাপাশি ১৯৯০ সালের ৫ই ডিসেম্বর এরশাদকে ক্ষমতাচ্যুত করে ১৯৯১ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাঘরিষ্ঠ দল হিসাবে বিএনপিকে জাতীয় সংসদে আসীন করে বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। উনার দীর্ঘ
রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় নিজেকে আপোষহীন নেত্রী হিসাবে বিশ্ব দরবারে
প্রতিষ্ঠিত করেন এবং চারবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।দীর্ঘ ১৭ বছর হাসিনা দুঃশাসন বিরোধী আন্দোলনে দেশনেত্রীর পাশে জিয়ার উত্তরসূরী হিসাবে তারেক জিয়া আবারও বিএনপিকে ২০২৬ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসাবে পুনরায় বিএনপির নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আজ শহীদ জিয়া নেই তাঁর উত্তরসূরী
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও ইহলোক ত্যাগ করেছেন। প্রতিষ্ঠাকালীন বিএনপি’র সকল নেতাকর্মীদের
পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাভরে তাদের স্মরণ করি।
প্রতিষ্ঠাকালীন বিএনপি’র একজন ছাত্র-যুব সংগঠক দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ¯েœহধন্য কর্মী
হিসাবে আমি মনে করি শহীদ জিয়া হত্যার প্রকৃত হত্যার রহস্য আজও অজানা এবং তৎকালীন সামরিক
ছত্রছায়ায় হত্যার বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও বেসরকারী পর্যায়ে ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন করা
সময়ের দাবী। বিএনপি’র সর্বস্তরে তারেক জিয়ার নেতৃত্বে শহীদ জিয়ার আদর্শের রাজনীতি বাস্তবায়নে দেশ
পরিচালনার পাশাপাশি সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে বিএনপিকে সজাগ দৃষ্টি রেখে পথচলা আবশ্যক। দেশ ও
জাতীর স্বার্থে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে সকল গণতন্ত্রের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দুর্নীতিমুক্ত
সমাজ গঠন আজ অপরিহার্য। কুমিল্লায় শহীদ জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত দীর্ঘ এই ৪৫ বছরের জাতীয়তাবাদের সংগ্রামে যাদের হারিয়েছি যথাক্রমে- ভিপি শাহআলম, ছাত্রনেতা আলাউদ্দিন, জসিম, , ডিলন, জামাল, যুবনেতা কবীর, নজরুল, মোস্তাক (নাঙ্গলকোট), আক্কাস সহ সকলকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি। আসুন দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে তারেক জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপির পতাকাকে সমুন্নত রাখি। আল্লাহ আমাদের সহায় হউন।