
নিজস্ব প্রতিবেদক।।
সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতার ওপর জোর দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, চালকের অদক্ষতা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং সাধারণ মানুষের অসচেতনতার কারণেই দেশে সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে। এই তিনটি জায়গায় সমন্বিতভাবে কাজ করতে পারলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
শুক্রবার (২২ মে) সকাল ১১টায় কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ ও সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসন কুমিল্লা ও বিআরটিএ কুমিল্লা সার্কেলের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের হাতে প্রায় ৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৮৬ জন নিহতের পরিবার এবং ৩৩ জন আহত ব্যক্তি বা তাদের পরিবার এই সহায়তা পান। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী বলেন, সামনে অল্প সময়ের মধ্যেই ঈদ যাত্রা শুরু হবে। মাত্র তিন দিনের মধ্যে আড়াই কোটি মানুষ এবং বিপুল সংখ্যক কোরবানির পশু পরিবহন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের বিদ্যমান অবকাঠামো ও পরিবহন ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়। তারপরও সবার সহযোগিতা, জনগণের সচেতনতা এবং অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এবারের ঈদ যাত্রা স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কিংবা আহত হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। এটি রাষ্ট্রেরও দায়। আমরা আজ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে সহায়তার চেক তুলে দিয়েছি, কিন্তু একজন উপার্জনক্ষম মানুষ বা প্রিয় স্বজন হারানোর বেদনা অর্থ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়। আমরা সেই পরিবারগুলোর কাছে ক্ষমা চাইতে এসেছি।
তিনি আরও বলেন, দেশে প্রতি বছর গড়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায়, যা রাষ্ট্রের ব্যর্থতারই প্রতিচ্ছবি। তবে এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে উল্লেখ করে তিনি বাস মালিকদের উদ্দেশ্যে দক্ষ ও অভিজ্ঞ চালকদের হাতে গাড়ি তুলে দেওয়ার আহ্বান জানান। মন্ত্রী বলেন, ফিটনেসবিহীন বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের চলাচল এবং চালকদের অদক্ষতা সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। পাশাপাশি জনগণের অসচেতনতাও দায়ী। মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংগুলোতে পর্যাপ্ত আন্ডারপাস, ওভারপাস ও ইউ-লুপ নির্মাণের মাধ্যমে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলেও তিনি মত দেন। একই সঙ্গে তিনি দেশে একটি আধুনিক ও সমন্বিত মাল্টিমোডাল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন এবং মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, দুর্ঘটনার স্থান ও কারণ চিহ্নিত করে আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে। দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের কারণে দুর্ঘটনার হার ধীরে ধীরে কমে আসছে বলেও তিনি দাবি করেন।এসময় কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বিশেষ অথিতির বক্তব্য দিতে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কেন কমছে না, সে বিষয়ে জনগণের কাছে জবাবদিহিতা থাকা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসান, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন, কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খান, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির খানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুঃ রেজা হাসান। বক্তারা বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু সরকারের পদক্ষেপই যথেষ্ট নয়, চালক, যাত্রী ও পথচারীসহ সমাজের প্রতিটি মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে।