নিজস্ব প্রতিবেদক।।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জেলা প্রশাসন ও র্যাব যৌথ অভিযানে চালিয়ে ১১ জন দালালকে আটক কেরেছে।সোমবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশের এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে প্রতারণা, কমিশনভিত্তিক রোগী সরবরাহ এবং ওষুধের দালালি সংক্রান্ত অভিযোগে এসব দালালকে আটক করা হয় বলে জানা গেছে।আটককৃতরা হলেন, কুমিল্লা সদর উপজেলার কুচাইতলী এলাকার মো. সোহেল (৩০), মো. তাজুল ইসলাম (৩০), মো. নাছের (৩৬), মো. ইমন (২১), তেতৌয়ারা এলাকার মাহবুবুর রহমান (২৮), চরপাত্তি এলাকার মো. জাকির (৪৩), চাঁপাপুর গ্রামের মাহমুদ (৪০)। এছাড়া চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া এলাকার মো. আলাদিন (৩৪), সদর দক্ষিণ উপজেলার রাজাপাড়া এলাকার মো. অপু (৩৪) এবং ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার উত্তর আজিজ ফাজিলপুর এলাকার আব্দুল আজিজ (৩৫)। হাসপাতালে আগত রোগী, রোগীর স্বজন ও স্থানীয়রা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল এলাকায় এক শ্রেণির দালাল চক্র রোগীদের ভোগান্তিতে ফেলছিল। প্রশাসনের এই উদ্যোগে সাধারণ মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেছে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওরোজ কোরাইশি দৃপ্ত। এ সময় মোট ১৪ জনকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দালালি কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় ১০ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়।
র্যাব-১১ এর কোম্পানি অধিনায়ক ও উপ-পরিচালক মেজর সাদমান ইবনে আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি যে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভেতরে ও আশপাশে কিছু অসাধু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে দালালি করে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। তারা বিভিন্নভাবে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে চিকিৎসা সেবায় বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। পরে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সেখানে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।তিনি আরও বলেন, আটককৃতদের মধ্যে কয়েকজন হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে রোগী ধরিয়ে দেওয়া, ওষুধ সরবরাহ ও অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া বাবদ কমিশন নেওয়া ও নানা অবৈধ কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল।অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওরোজ কোরাইশি দৃপ্ত বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দালালচক্র সক্রিয়। র্যাবের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে জড়িতদের আটক করা হয়েছে। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দালালদের কোনো স্থান নেই। এই ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে।











