
নিজস্ব প্রতিবেদক।। সিরিজ রিপোর্ট-০১।।
কুমিল্লা দেবিদ্বার উপজেলার ধামতী (দঃ) ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব ফিরোজ ভূঁইয়া, যেন আরেক রাজত্বের অফিস গড়ে তুলেছেন ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে।মাস তিনেক হয় দেবিদ্বার উপজেলার ধামতী (দঃ) ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগদান করেছেন। ফিরোজ যোগদান করার সাথে সাথে একত্রিত অফিসকে নিজের জন্য আলাদা কক্ষ গড়ে তুলেছেন। তার বিরুদ্ধে এমন রাজকীয়তা নতুন কিছু নয়। ইতিপূর্বেও এমন অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সে যেই যেই স্থানে ছিলেন সেই সেই স্থানেও তার এমন রাজকীয়তা গড়েছিলেন। তারই ধারাবাহিকতা রক্ষা করে এখানেও তিনি এমন নজির স্থাপন করেছেন।সাধারণ একটি ইউনিয়নের মধ্যে দুইটি ভূমি অফিস তার মধ্যে ধামতী (দঃ) ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নায়েব: ১/ নায়েব ফিরোজ ভূঁইয়া, ২/ অফিস সহায়ক নূরুল ইসলাম, ৩/ অফিস সহায়ক বকুল আক্তার, ৪/ ঝাড়ুদার হিমান শো চন্দ্রদাস মোট চারজন কর্মরত রয়েছেন। দুঃখজনক হলেও সত্য এই যে, ঝাড়ুদার হিমান শো চন্দ্রদাসকে তিন দিন গিয়েই দেখা গেছে কম্পিউটারে জমি খারিজ সহ খানা খারিজের কাজ করতে। ঝাড়ুদারকে দিয়ে যদি খারিজের মতন অনলাইন কাজ করানো হয় তাহলে সরকারি ভূমি সার্ভারের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্নও উঠে। প্রশ্নও উঠে তহসিলদার ও অফিস সহায়কদেরকে নিয়েও। ঝাড়ুদার যদি এসব কাজ করতে পারেন তাহলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কী প্রয়োজন?ঝাড়ুদার হিমান শো চন্দ্রদাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তিনি বিভিন্ন সময় সেবা নিতে আসা লোকদের সাথে জমি খারিজ ও খারিজের বিষয় মোটা অংকের চুক্তি করে খাজনা ও খারিজ করার। এছাড়াও তহসিলদার ফিরোজ ভূঁইয়া ধামতী ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী এলাকা আসাদনগরে বাড়ি হওয়াতে তার আধিপত্য বিস্তার করছেন পারিবারিক ক্ষমতা ব্যবহার করে।সরেজমিনে অনুসন্ধানে গেলে দেখা যায় যে, তহসিলদার ফিরোজ ভূঁইয়া কচি ডাব খেতে খুব পছন্দ করেন এছাড়াও তার বাড়ির জন্য তাজা সবজির অফিসে বসেই বাজার করেন। বিভিন্ন লোকরা তার অফিসে এনে দিয়ে যেতেই দেখা যায়।স্থানীয় বাসিন্দা রশিদ, কালাম সহ রফিকুলের অভিযোগ খারিজ করতে ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত তারা খারিজ করতে হয়েছে। আরও অভিযোগ করেন জমি নিয়ে বড় সমস্যা থাকলে লাখ টাকাও গুনতে হয় এই অফিসে। তবে আগে এমন হত না কিন্তু তহসিলদার ফিরোজ ভূঁইয়া আসার পর থেকেই এমন চিত্র এখন দেখা যাচ্ছে। তহসিলদার ফিরোজ ভূঁইয়া নিজে ডিল করেন না ঝাড়ুদার সহ অফিস সহায়কদেরকে দিয়ে তিনি এসব বেশিভাগ ডিল করার অভিযোগ রয়েছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খারিজ করতে আসা লোকদের কেউ কেউ ২০,৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত কন্ট্রাক্ট করে খারিজ করাচ্ছেন। তাদের দাবি নাম প্রকাশ করলে তাদের খারিজ করতে সমস্যা হবে বলে তাদের নাম প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানান। তবে তহসিলদার ফিরোজ ভূঁইয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি কুমিল্লা জেলার বড় বড় সাংবাদিকদের পরিচয় দেন খুব কাছের লোক ভাই বন্ধু বলেও। এসব বলে প্রতিবেদককে দমানোর চেষ্টা করতেও তিনি বিন্দুমাত্র পিছু হটেননি।তিনি ভূমি তহসিলদার সমিতির সদস্য হওয়ার পরেও তিনি ভোট দেন না চিনান না সভাপতি সাধারণ সম্পাদকদেকেও। চিনার কিংবা ভোট প্রধানের প্রয়োজন পরে না কারন তিনি অনেক ক্ষমিতাধর।তহসিলদার ফিরোজ ভূঁইয়া দেবিদ্বার উপজেলার আসাদনগরের আব্দুল রশিদ ভূঁইয়ার ছেলে। তার কর্মস্থল ধামতী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সংলগ্ন এলাকা হওয়াতে তার আধিপত্য বেড়েই চলছে।