
স্টাফ রিপোর্টার।।
র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সবসময় বিভিন্ন ধরনের অপরাধীদের গ্রেফতারের ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে| র্যাবের সৃষ্টিকাল থেকে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, খুনী, বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র গোলাবারুদ উদ্ধার, ডাকাত, ছিনতাইকারী, অপহরণ, প্রতারক ও হত্যাকান্ডের অপরাধে জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতার করে সাধারণ জনগণের মনে আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর হত্যার ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে র্যাব জনগণের সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। গত ২৮ মে ২০২৬ ইং তারিখ সকাল অনুমান ১০.০০ ঘটিকায় কুমিল্লার বুড়িচংয়ে এক নারীকে হত্যার ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে জানা যায়, তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানাধীন নোয়াপাড়া এলাকায় ভিকটিম ভাড়া বাসায় একা বসবাস করত। গত ২৮ মে ২০২৬ ইং তারিখ ঈদের দিন হওয়ায় তার মায়ের সাথে দেখা করতে আসে এবং বিকাল ০৩.০০ ঘটিকায় ভিকটিমের মেয়ে তার মায়ের সাথে দেখা করে সে তার শশুর বাড়িতে চলে যা পরবর্তীতে গত ২৯ মে ২০২৬ তারিখ সকালে ভিকটিমের মেয়ে মুঠো ফোনের মাধ্যমে জানতে পারে যে, তার মাকে কে বা কারা হত্যা করেছে। তাৎক্ষনিকভাবে ভিকটিমের মেয়ে তার মায়ের বাসায় এসে ঘরে ঢুকে খাটের উপর ভিকটিমের লাশ দেখতে পায়। উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের মেয়ে বাদী হয়ে কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানায় অজ্ঞাতনামা আসামীর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দয়ের করেন, যার মামলা নং-৪৫, তারিখ-২৯/০৫/২০২৬ইং, ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০ এই খুনের ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করে।এরই ধারাবাহিকতায়, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ও প্রাপ্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩০/০৫/২০২৬ ইং তারিখ ০৩:৪৫ ঘটিকায় র্যাব-১১ সিপিসি-২ ও র্যাব-১১, সিপিসি-১ এর যৌথ বিশেষ আভিযানিক দল গাজিপুর জেলার গাজিপুর সদর থানাধীন ধীরাশ্রম বুড়ি বটতলা এলাকা হতে উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত প্রধান আসামী মোঃ সুমন (৩০), পিতা- মোঃ জামাল মিয়া, মাতা- মায়া আক্তার, সাং- শাহাগোদা, থানা- মুরাদনগর, জেলা-কুমিল্লা এ/পি সাং-ধীরাশ্রম বুড়ি বটতলা (দুলাল মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া), থানা-জিএমপি সদর, জিএমপি, গাজীপুর’কে গ্রেফতার করে। এসময় আসামীর নিকট হতে ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ও গ্রেফতারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামী একজন মাদকাসক্ত ভিকটিম লিপি আক্তার(৪০) আসামীর দ্বিতীয় স্ত্রী।গত ২৮ মে ২০২৬ ইং তারিখ রাতে সে ভিকটিমের বাসায় যায় এবং ভিকটিমের সাথে রাত্রিযাপন করে পরের দিন অর্থাৎ ২৯ মে ২০২৬ ইং তারিখ ভোর ০৪.৩০ ঘটিকার সময় আসামী ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি নিয়ে চলে যেতে চাইলে ভিকটিম বাধা দেয় এবং তাদের মধ্যে উক্ত বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি হয় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে গ্রেফতারকৃত আসামী ভিকটিমের সাথে ধস্তাধস্তি করে তাকে বিছানায় ফেলে দিয়ে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে। ঘটনার পরপরই আসামী গ্রেফতার এড়াতে আত্নগোপনে চলে যায় এবং বিভিন্ন জায়গায় আত্নগোপনে থাকে গ্রেফতারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে সে উক্ত ঘটনায় নিজের জড়িত থাকার কথা অকপটে শিকার করে|গ্রেফতারকৃত আসামীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।