
নিজস্ব সংবাদদাতা।।
কুমিল্লার দেবীদ্বারে মাদকাসক্ত পুত্রের লাঠিপেটায় পিতা নিহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে শনিবার (১৬ মে) সকাল সাড়ে ৭ টায় দেবীদ্বার পৌর এলাকার বড়আলমপুর কুশাগাজী বাড়িতে।নিহত আব্দুল আলীম ওরফে ছেনু মিয়া (৭০) দেবীদ্বার পৌর এলাকার বড়আলমপুর গ্রামের কুশাগাজী বাড়ির মৃত আকামত আলীর ছেলে।নিহত ছেনু মিয়া (আব্দুল আলীম) দির্ঘদিন প্রবাস জীবন শেষে দেশে এসে একটি এক্টেল কোম্পানীর টাওয়ারের নৈশ প্রহরীর কাজ করতেন।স্থানীয়রা জানান, মাদকের টাকার জন্য নিহতের বড় ছেলে রাসেল আহমেদ(৩০) প্রায়ই তার বাবাকে মারধর করত। গত কিছুদিন পূর্বে রাসেল তার বাবার কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকাও নিয়েছে। ছেনুমিয়ার ৪ ছেলের মধ্যে ছোট ছেলে সিয়াম(২৪) প্রবাসে আছে। ৪ ছেলে মধ্যে রাসেলকে (৩০) আলাদা করে দেয়া হয়। বাকী ৩ জন নাঈমুল হাসান(২৮) এবং নাহিদুল ইসলাম(২৬) এবং প্রবাসী সিয়াম(২৪) পিতা- মাতার সাথে থাকেন।শনিবার (১৬ মে) সকালে নিহত ছেনু মিয়া বারেরা ফুলগাছ তলায় একটেল কোম্পানির একটি টাওয়ারের রাত্রিকালীন পাহারা শেষে বাড়ি ফেরার পথে ওনার নিজ হাতে লাগানো কিছু গাছ জাহাঙ্গীর আলম নামে এক ব্যক্তি কাটতে গেলে তিনি বাঁধা দেন। জাহাঙ্গীর আলম তার ক্রয়কৃত জমির সীমানা প্রাচীর নির্মানের সময় গাছগুলো কাটতে বাঁধা দেওয়ায় ছেনুমিয়ার বিরুদ্ধে তার ছেলে রাসেলের নিকট বিচার দেন।ওই ঘটনায় বাড়ি এসে রাসেল তার বাবার সাথে তর্কে লিপ্ত হয়, রাসেলকে না জানিয়ে জমি বিক্রয় এবং জমি বিক্রয়ের টাকার ভাগ তাকে কেন দেয়া হলনা, এ নিয়ে তর্কাতর্কীর এক পর্যায়ে লাঠি দিয়ে তার বাবাকে পিটিয়ে আহত করে। তার বাবা একটি দা নিয়ে রাসেলকে ধাওয়া করে, রাসেলের হাতে দা’র কোপ পড়ে। ক্ষুব্ধ রাসেল পুনরায় তার বাবাকে বেধরক পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে। এক পর্যায়ে ঘরে রেখেই চিকিৎসা দেয়। বেলা দেড়টার সময় আশংকাজনক অবস্থায় দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর থেকে ঘাতক ছেলে রাসেল পলাতক রয়েছে। একাবাসীর মধ্যেও চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।স্থানীয় কৃষক আলী হোসেন (৬৫) জানান, ছেনু মিয়ার ছেলেগুলো কেউ মানুষ হয়নি, ছোট ছেলেটাকে বিদেশ পাঠিয়েছে। বাকী ৩ ছেলে মাঝে মাঝে রাজমিস্ত্রির কাজে গেলেও বাবার আয়ের উপর নির্ভরশীল।নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন স্কুল শিক্ষক জানান, ছেনুমিয়ার ৩ ছেলেই মাদকাসক্ত, এটা ধামাচাপা দিলে ওদের হাতে নিরিহ মানুষও খুন হতে পারে। তাই তার বিচার হওয়া দরকার।ছেনু মিয়ার স্ত্রী নাজমা বেগম (৬০) জানান, আমার ছেলে রাসেলই আমার স্বামীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।ছেনু মিয়ার মেঝে ছেলে নাঈমুল ইসলাম বলেন, আমার ভাইকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে, বাবা অসুস্থ্য তাই মারা গেছেন।দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, গাছ কাটা নিয়ে পিতা- পুত্রের তর্কাতর্কীর এক পর্যায়ে মারামারি হয়। মারামারির পর হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা না হলে মৃত্যুর কারন নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের উপর নির্ভর করতে হবে।তবে নিহতের শরীরে লাঠিপেটার দাগ ছিল।