
নিজস্ব প্রতিবেদক।।
দীর্ঘ দুই বছর ধরে অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও চালু হয়নি কুমিল্লার ১০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতাল। অবশেষে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ এবং এশিয়া পোস্টে গুরুত্বসহকারে প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রীর জরুরি নির্দেশনায় হাসপাতালটি চালুর উদ্যোগ শুরু করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।একটি সূত্র জানায়, কুমিল্লাসহ দেশের ছয়টি জেলায় নির্মিত শিশু হাসপাতালগুলো দীর্ঘদিন চালু না হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে অসন্তোষ তৈরি হয়। বিশেষ করে কুমিল্লা শিশু হাসপাতাল নিয়ে গণমাধ্যমে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয় প্রশাসন। পরে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো হাসপাতাল চালুর বিষয়ে জরুরি তৎপরতা শুরু করে।জানা গেছে, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বেলতলী এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শিশু হাসপাতালটির কাজ ২০২৪ সালের জুনে শেষ হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে হাসপাতালটি দীর্ঘদিন বন্ধ পড়ে ছিল।স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানায়, ভবন নির্মাণ শেষে দায়িত্ব বুঝে নেওয়া নিয়ে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় জটিলতা তৈরি হয়। এছাড়া হাসপাতাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় আসবাব, যন্ত্রপাতি ও জনবল নিয়োগের আলাদা বরাদ্দ না থাকায় চালু প্রক্রিয়া থমকে যায়।সম্প্রতি এশিয়া পোস্টসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় জনদুর্ভোগ ও শিশু চিকিৎসা সংকট নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে নজরে আসে। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে হাসপাতালটি দ্রুত চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।কুমেক হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. শাহজাহান জানান, হাসপাতাল চালুর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল, এনআইসিইউসহ আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের চাহিদাপত্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালটি চালু হলে কুমিল্লাসহ আশপাশের জেলার শিশু রোগীরা উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবে এবং ঢাকার ওপর চাপ কমবে।এদিকে কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা. আলী নুর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর আমরা আশাবাদী খুব দ্রুতই হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হবে।স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আর যেন অবহেলায় পড়ে না থাকে কোটি টাকার এই হাসপাতাল। দ্রুত চালুর মাধ্যমে শিশুদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হবে—এমনটাই চান সচেতন