1. news@cumillarkhobor.com : কুমিল্লার খবর : কুমিল্লার খবর cumillarkhobor
  2. : lf_Wt8ucTCGB7Cm :
  3. info@www.cumillarkhobor.com : কুমিল্লার খবর :
কুমিল্লা: অরক্ষিত ১১৬ লেভেল ক্রসিং, পাঁচ বছরে ঝরল ৩৫৫ প্রাণ - কুমিল্লার খবর
রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:৫৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কুমিল্লা শহরে সন্ধ্যায় সিএনজিতে ছিনতাইয়ের চেষ্টা, আটক ১ সম্পত্তির জেরে মা-ভাইকে খুনের অভিযোগ, কে এই সরকারি কর্মকর্তা!!? সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া অটোরিকশায় চার্জ দিলে জরিমানা, করতে হবে নিবন্ধন সরকার ফ্যাসিজমের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ‎-মিয়া গোলাম পরওয়ার সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ বাংলাদেশির দাফন সম্পন্ন! নবীন সাংবাদিককে অপমান করার অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে?—সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু কঠিন প্রশ্ন। কুমিল্লায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা: প্রধান আসামি গ্রেফতার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বুড়িচং উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দল ও প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত Mostbet tr casino sitesine katilin Mobilde ya da bilgisayarda Sweet Bonanza keyfi 🎯 hep yanında

কুমিল্লা: অরক্ষিত ১১৬ লেভেল ক্রসিং, পাঁচ বছরে ঝরল ৩৫৫ প্রাণ

  • প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬

কুমিল্লা: অরক্ষিত ১১৬ লেভেল ক্রসিং, পাঁচ বছরে ঝরল ৩৫৫ প্রাণ

বৈধ ক্রসিংগুলোর অনেকটাতেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেই। এসব দুর্ঘটনায় অনেকে আহত হয়ে পঙ্গু হয়েছে। সতর্কতার সাইনবোর্ড টানিয়ে দায় এড়ানো হচ্ছে।
জনসচেতনতা বাড়লে প্রাণহানি কমানো সম্ভব: পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক।।
কুমিল্লা অঞ্চলের রেলপথজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অরক্ষিত ও অনুমোদনহীন লেভেল ক্রসিংগুলো যেন প্রতিনিয়ত মৃত্যুর ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ঝুঁকি জেনেও প্রতিদিন হাজারো মানুষ এসব ক্রসিং ব্যবহার করছেন। গত পাঁচ বছরে এমন ঝুঁকিপূর্ণ ক্রসিংগুলোতে প্রাণ ঝরেছে অন্তত ৩৫৫ জনের। প্রায় ১৮৬ কিলোমিটার রেলপথে ১১৬টি অরক্ষিত ক্রসিং থাকায় জননিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।
অন্যদিকে, বৈধ কিছু ক্রসিং থাকলেও সেগুলোর অনেকটাতেই নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা বা দায়িত্বশীল গেটম্যান। ফলে বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে অধিকাংশ লেভেল ক্রসিংই এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সবশেষ গত ৩০ মার্চ বিকেলে লালমাই উপজেলার দত্তপুর এলাকায় ট্রেনের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে সুমন নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়। এর আগে ২১ মার্চ রাতে কুমিল্লার পদুয়ারবাজার রেলক্রসিং এলাকায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে লক্ষ্মীপুরগামী ‘মামুন স্পেশাল’ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নারী-শিশুসহ ১২ জন নিহত হন এবং দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হন। এ দুর্ঘটনা নতুন করে রেলক্রসিংয়ের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে বুড়িচং উপজেলার কালিকাপুর এলাকায় একটি অরক্ষিত ক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় এক অটোরিকশা দুমড়ে-মুচড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই সাতজন প্রাণ হারান। ২০২৩ সালে মনোহরগঞ্জ উপজেলার তুগুরিয়া এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ট্রেনের ধাক্কায় ৫ জন মারা যান। ২০২২ সালের ৯ মার্চ সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুরে ট্রেনে কাটা পড়ে ৩ স্কুলছাত্রী নিহত হয়। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, লাকসাম-নোয়াখালী, লাকসাম-চাঁদপুর এবং লাকসাম-আখাউড়া রেলপথজুড়ে বিপুলসংখ্যক বৈধ ও অবৈধ লেভেল ক্রসিং রয়েছে। লাকসাম-নোয়াখালী রুটের ৪৯ কিলোমিটারে ১৯টি বৈধ ও ৪২টি অবৈধ, লাকসাম-চাঁদপুর রুটের ৫১ কিলোমিটারে ২৩টি বৈধ ও ৩৬টি অবৈধ এবং লাকসাম-আখাউড়া রুটের ৭২ কিলোমিটারে ৩৩টি বৈধ ও ৩৮টি অবৈধ লেভেল ক্রসিং রয়েছে। এসব অবৈধ ক্রসিংয়ের মধ্যে অন্তত ৩২টি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্মিত সড়কের সঙ্গে যুক্ত। বাকি ক্রসিংগুলো পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের সড়কের কারণে তৈরি করা হয়েছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, যথাযথ সমন্বয় ছাড়াই এসব সড়ক নির্মাণের ফলে ক্রসিং ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে। লাকসাম রেলওয়ে থানা সূত্র জানায়, গত পাঁচ বছরে এই অঞ্চলে ট্রেনে কাটা পড়ে, যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষে কিংবা অসতর্কভাবে রেললাইন পার হতে গিয়ে অন্তত ৩৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণ করেছেন অনেকেই। বছরভিত্তিক হিসাবে ২০২১ সালে ৪১, ২০২২ সালে ৭১, ২০২৩ সালে ৬৮, ২০২৪ সালে ৭০, ২০২৫ সালে ৭৫ এবং চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। রেলক্রসিংগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, অনেক স্থানে ‘অনুমোদনহীন লেভেল ক্রসিং, নিজ দায়িত্বে পারাপার হউন’—এমন সাইনবোর্ড টানিয়ে দায় এড়ানো হয়েছে। অথচ বাস্তবে এসব স্থানে নেই কোনো গেট, গেটম্যান কিংবা আধুনিক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ট্রেনচালক জানান, অবৈধ লেভেল ক্রসিংয়ের কারণে তাঁরা সব সময় আতঙ্কে থাকেন। অনেক সময় হর্ন বাজিয়েও দুর্ঘটনা এড়ানো যায় না। কারণ অনেক চালক যথাযথভাবে সতর্ক না হয়ে রেললাইন পার হতে যান। আবার কখনো যানবাহন হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে বড় দুর্ঘটনা ঘটে। লাকসাম রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের আওতাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ব্রাহ্মণপাড়া থেকে ফেনীর মুহুরীগঞ্জ পর্যন্ত, লাকসাম-নোয়াখালী ও লাকসাম-চাঁদপুর রুটে অসংখ্য অবৈধ লেভেল ক্রসিং রয়েছে। এসব স্থানে অসাবধানতার কারণে দুর্ঘটনা বেড়েই চলেছে। জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে প্রাণহানি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। রেলওয়ের কুমিল্লা অঞ্চলের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘এলজিইডি আমাদের সঙ্গে সমন্বয় না করেই অনেক সড়ক নির্মাণ করেছে, ফলে অবৈধ রেলক্রসিং তৈরি হয়েছে। আমরা বাধা দিলেও অনেক সময় তা উপেক্ষা করে রাতের অন্ধকারে এসব রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।’এলজিইডি কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী মফিজ উদ্দিন জানান, ২০২৪ সালে ঝুঁকিপূর্ণ ৩১টি রেলক্রসিংয়ের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে সদর দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে আবারও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান বলেন, অরক্ষিত রেলক্রসিংগুলো নিরাপত্তার আওতায় আনতে পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

  1. © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : কুমিল্লার খবর