
লাকসাম প্রতিনিধি কুমিল্লা।।
কুমিল্লার লাকসামে ধানখেত থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে চ্যানেল এসের উপজেলা প্রতিনিধি সৌরভ হোসেন হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুন নাহার লাইলীর বিরুদ্ধে ওই সাংবাদিকের মুঠোফোন নিয়ে নেওয়া, ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলা এবং তাঁকে অকথ্য ভাষায় কথা বলার অভিযোগ করা হয়েছে। আজ [১৮ই অক্টোবর ২০২৬ ] রোববার লাকসাম উপজেলার বাকই ইউনিয়নের তারাপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান সৌরভ হোসেন। তাঁর অভিযোগ, সেখানে সংবাদ সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণের সময় ওসি তাঁর মুঠোফোন নিয়ে নেন। পরে ওই ফোনে ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলা হয়। এ সময় ভিডিও ধারণ করতে হলে ওসির অনুমতি নিতে হবে বলেও তাঁকে জানানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।সৌরভ হোসেনের অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য জানা যায়নি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে লাকসাম থানার ওসি কাজী কামরুন নাহার লাইলীর সরকারি মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করেন জাতীয় সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ ফাউন্ডেশন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার সভাপতি ও দৈনিক মুক্ত খবরের লাকসাম প্রতিনিধি আবুল হোসেন বাবুল। তবে তিনি ফোন ধরেননি বলে জানান বাবুল।ঘটনাটি নিয়ে লাকসামের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকের সঙ্গে এ ধরনের আচরণের অভিযোগ তাঁদের পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।সাংবাদিকতার সঙ্গে জরিত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে পেশাগত সহযোগিতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা থাকা জরুরি। কোনো ঘটনায় আইনগত বা নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিধিনিষেধ থাকলে তা আইনানুগ পদ্ধতিতে প্রয়োগ করা উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ।এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক মহলের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।প্রতিবেদকের মন্তব্য: এ প্রতিবেদন তৈরির সময় অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।