
নিজস্ব সংবাদদাতা।।
কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী বলেছেন, ঢাকা-কুমিল্লা বিকল্প মহাসড়ক নির্মাণ করা হলে অবহেলিত কুমিল্লার উত্তরাঞ্চলের আর্থসামাজিক উন্নয়নের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে।এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসবে।একই সঙ্গে ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর যানবাহনের চাপও কমবে।শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা ভাষাসৈনিক অজিতগুহ কলেজের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ঢাকা-কুমিল্লা সরাসরি রেললাইন স্থাপন ছিল তাঁর দীর্ঘদিনের আন্দোলনের অন্যতম দাবি। আলহামদুলিল্লাহ, বাজেটে সরাসরি রেললাইন নির্মাণের বিষয়ে অনুমোদন হয়েছে। শিগগিরই এর কাজ দৃশ্যমান হবে। ঢাকা-কুমিল্লা সরাসরি রেললাইন চালু হলে রাজধানীর সঙ্গে কুমিল্লার যোগাযোগ আরও সহজ হবে। এমনকি কুমিল্লায় বসবাস করেও ঢাকায় গিয়ে মানুষ চাকরি বা ব্যবসার কাজ করতে পারবে। এতে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা আরও সহজ ও গতিশীল হবে।অজিতগুহ কলেজ জাতীয়করণের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লা ভাষাসৈনিক অজিতগুহ কলেজকে জাতীয়করণের জন্য সংসদে দাবি তুলবেন। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর কাছেও এ দাবি উপস্থাপন করবেন।তিনি আরও বলেন, কলেজটির জন্য গোমতী নদীর উত্তরে আলাদা একটি আধুনিক ক্যাম্পাস করা প্রয়োজন। এ জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষকে পাঁচ একর জমি খুঁজে দেখতে বলা হয়েছে। সেখানে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত একটি ক্যাম্পাস গড়ে তোলা হবে।শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, শুধু ভালো ফলাফল অর্জনই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নয়। ভালো ফলাফলের পাশাপাশি ভালো মানুষ হওয়াও জরুরি। নীতি-নৈতিকতাবিবর্জিত শিক্ষা কোনোভাবেই পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা হতে পারে না। তোমরা পড়াশোনা করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতির সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করবে এটাই তোমাদের কাছে আমার প্রত্যাশা।কলেজের অধ্যক্ষ মো. শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সাহরীয়ার আকতার, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল হক ভূঁইয়া স্বপন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাহিদ চৌধুরী, সদর দক্ষিণ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আখতার হোসাইনসহ কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।