1. news@cumillarkhobor.com : কুমিল্লার খবর : কুমিল্লার খবর cumillarkhobor
  2. : lf_Wt8ucTCGB7Cm :
  3. info@www.cumillarkhobor.com : কুমিল্লার খবর :
সম্পত্তির জেরে মা-ভাইকে খুনের অভিযোগ, কে এই সরকারি কর্মকর্তা!!? - কুমিল্লার খবর
শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কুমিল্লা শহরে সন্ধ্যায় সিএনজিতে ছিনতাইয়ের চেষ্টা, আটক ১ সম্পত্তির জেরে মা-ভাইকে খুনের অভিযোগ, কে এই সরকারি কর্মকর্তা!!? সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া অটোরিকশায় চার্জ দিলে জরিমানা, করতে হবে নিবন্ধন সরকার ফ্যাসিজমের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ‎-মিয়া গোলাম পরওয়ার সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ বাংলাদেশির দাফন সম্পন্ন! নবীন সাংবাদিককে অপমান করার অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে?—সাংবাদিকতার ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু কঠিন প্রশ্ন। কুমিল্লায় সাংবাদিকদের ওপর হামলা: প্রধান আসামি গ্রেফতার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বুড়িচং উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দল ও প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত Mostbet tr casino sitesine katilin Mobilde ya da bilgisayarda Sweet Bonanza keyfi 🎯 hep yanında

সম্পত্তির জেরে মা-ভাইকে খুনের অভিযোগ, কে এই সরকারি কর্মকর্তা!!?

  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬

সম্পত্তির জেরে মা-ভাইকে খুনের অভিযোগ, কে এই সরকারি কর্মকর্তা!!?

নিজস্ব সংবাদদাতা।।
সম্পত্তির জেরে মা-ভাইকে খুনের অভিযোগ, কে এই সরকারি কর্মকর্তা?ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মহিউদ্দীন খন্দকার মিজানকে ঘিরে নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য, অবৈধ অর্থ লেনদেন, প্রভাব বিস্তার ও সম্পদ অর্জনের অভিযোগের পাশাপাশি নতুন করে সামনে এসেছে তার মা ও ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনাও। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে বগুড়া ও গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন অনুসন্ধান করেছে টিম ব্লুপ্রিন্ট। অনুসন্ধানে অভিযোগকারী, স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও মহিউদ্দীনের ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া গেছে নানা তথ্য। যদিও এসব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
মায়ের মৃত্যুর মামলা, এরপর ভাইয়ের মৃত্যু
২০২২ সালের ২৪ মার্চ বগুড়ার শিবগঞ্জে মারা যান মহিউদ্দীনের মা দুলালী বেগম। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় মহিউদ্দীনকে তিন নম্বর আসামি করা হয়। মামলার বাদী ছিলেন তারই ছোট ভাই মমিন খন্দকার, যিনি ফায়ার সার্ভিসে চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মামলার নথি অনুযায়ী, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে দুলালী বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়। মৃত্যুর পর ময়নাতদন্ত না করে তরিঘরি করে লাশ দাফনের অভিযোগও করা হয় মামলায়।মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় ভাই মমিন মামলা করার পর তার বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা এবং হয়রানির ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন মমিনের দ্বিতীয় স্ত্রী শাহানা আক্তার। মহিউদ্দিন মমিনের জামিন করিয়ে বদলে দেয় পরিস্থিতি
বগুড়া জজকোর্টে শিক্ষানবিশ আইনজীবী হিসেবে কর্মরত শাহানা আক্তার তথা মমিনের ২য় স্ত্রীর সাথে দেখা করে টিম ব্লুপ্রিন্ট। তিনি অভিযোগ করেন, মা মারা যাওয়ার ঘটনায় মামলা করার পর বিভিন্ন রকম মিথ্যা মামলার শিকার হতে হয় মোমিনকে, নিজের বাবাকে বাদী করে জমির কাগজপত্র চুরির মামলাও করা হয় বলে দাবি তার। একপর্যায়ে কারাগারে যেতে হয় মমিনকে। তখন শাহানা ছিলেন ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
মমিনের করা হত্যা মামলা প্রত্যাহার করলে তার বিরুদ্ধে করা মামলাও তুলে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন মহিউদ্দিন। পরে সমঝোতার মাধ্যমে আপোষসত্বে মমিনের জামিনের পরই বদলে যায় পরিস্থিতি। এ সংক্রান্ত আপসনামার কপি রয়েছে তাদের কাছে। তবে মমিন হত্যা মামলা প্রত্যাহার করেননি বলে জানান শাহানা। এরই মধ্যে ২০২২ সালের ৭ জুলাই জামিনে মুক্তি পান মমিন। তবে তিনি আর বাসায় ফিরতে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরে যান স্ত্রী শাহানা। সম্ভাব্য বিভিন্ন জায়গায় সন্ধান করেও মেলেনি স্বামীর খোঁজ। এর প্রায় ২২ দিন পর শাহানা জানতে পারেন, জামিনের রাতেই তার স্বামীকে ভুলভাল বুঝিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় জয়পুরহাটের চেতনা মাদকাশক্তি চিকিৎসা কেন্দ্রে। বিষয়টি জানতে পেরে দীর্ঘদিন পর স্বামীকে দেখার জন্য আকুল আগ্রহ নিয়ে জয়পুরহাটের সেই মাদক নিরাময় কেন্দ্রে যান শাহানা। কিন্তু স্বামীর সঙ্গে তাকে দেখা করতে দেয়নি সংশ্লিষ্টরা। তবে শাহানার দাবি উল্টো, তিনি টিম ব্লু প্রিন্টকে জানান তার স্বামী কখনোই মাদক সেবন করেননি। শাহানা জানান, তিনি স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে গেছেন, বিষয়টি চেতনা মাদকাশক্তি চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে মহিউদ্দিনকে জানিয়ে দেওয়া হয়। এরপর মোমেনকে একে একে দিনাজপুর, নাটোর, চুয়াডাঙ্গা ও রংপুরের বিভিন্ন মাদক নিরাময় কেন্দ্রে নিয়ে বারবার তার অবস্থান পরিবর্ত করা হয়। এরই মধ্যে শাহানার কোলজুড়ে আসে তাদের সন্তান মুজাদ্দিদ। সন্তান জন্মের ১১ দিন পর শাহানা জানতে পারেন তার স্বামী রংপুরের স্নেহা মাদকাশক্তি, মানসিক রোগ নিরাময় কেন্দ্রে আছেন। স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে ছোট্ট কোলের শিশুকে নিয়ে সেখানেও ছুটে যান শাহানা। কিন্তু তাকে এবারও দেখা করতে দেওয়া হয়নি। পরে পুলিশের সহায়তায় দূর থেকে স্বামীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান তিনি। আর সেদিনই সন্তানকে প্রথমবারের মতো দেখতে পান মমিন। সন্তানকে দেখতে পেলেও সেদিন আর কোলে নেওয়ার সৌভাগ্য হয়নি এই বাবার। স্ত্রী-সন্তান সামনে থাকলেও তাদের সঙ্গে বাড়ি ফেরা হয়নি তার। পরদিন স্বামীকে নিয়ে বাড়ি ফিরবেন, সেই আশায় ওইদিন রাতে রংপুরেই এক আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করেন শাহানা। পরদিন সকালে স্বামীকে আনতে স্নেহা মাদকাশক্তি, মানসিক রোগ নিরাময় কেন্দ্রে যান শাহানা। কিন্তু সেখানে গিয়ে যেন তার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে। তিনি জানতে পারেন গতকাল গভীর রাতে স্বামীকে এখান থেকে মহিউদ্দিন কোথায় যেন নিয়ে গেছেন।
আবার স্বামীকে খুঁজতে থাকেন শাহানা। পরে মমিনকে জয়পুরহাটের একটি সরকারি কোয়ার্টারে আটকে রাখার খবর পান তিনি। সেখানে ডিবি পুলিশ, সাংবাদিক নিয়ে গিয়েও স্বামীকে উদ্ধার করতে পারেননি শাহানা। সেখানে তাদের বাধা দেন ফায়ার সার্ভিসের কয়েকজন সদস্য।
পরে শাহানার আবেদনের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে দুই গাড়ি র‌্যাব গিয়ে মমিনকে উদ্ধার করে। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সাংবাদিক নূর নবী রহমান। উদ্ধারের পর মমিন ও তার স্ত্রীকে র‍্যাব কার্যালয়ে নেওয়া হয় এবং সেখানে তাদের বক্তব্যও নেওয়া হয়। এরপরই প্রথমবারের মতো সন্তানকে কোলে নেন মোমেন। এরই মধ্যে র‌্যাব ক্যাম্পে চলে আসেন মোমেনের বাবা ও বোন। তাদের সঙ্গে আসেন ফায়ার সার্ভিসের কয়েকজন সদস্য। শাহানার দাবি, মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে র‌্যাব কার্যালয়ও ম্যানেজ করেছিলেন মহিউদ্দিন। সেদিনও স্বামীকে বাড়ি নিতে পারেননি শাহানা।
মোমেনের বাবা ও পরিবারের সদস্যরা র‍্যাব কার্যালয়ে গিয়ে পারিবারিক বিরোধ মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাকে গ্রামের বাড়ি নিয়ে যান। মমিন স্ত্রী-সন্তানের সঙ্গে যেতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত বাবার সঙ্গে যেতে বাধ্য হন। গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পরদিন ২০২৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সকালে মমিনের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে সাংবাদিক নূর নবী রহমানের সঙ্গে কথা হয় টিম ব্লুপ্রিন্টের। তার ভাষ্য অনুযায়ী, উদ্ধারের সময় মোমেনকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনের চিহ্ন দেখা গিয়েছিল। উদ্ধারের একদিন পর নিজের ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় মমিনের মরদেহ। মোমেনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যার রূপ দেওয়া হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে। সংবাদিক নূর নবী মন্তব্য করেন, এটা কোনোভাবেই আত্নহত্যা ছিল না, সেসময় এ বিষয় নিয়ে সংবাদও প্রকাশ করেন তিনি। “আত্মহত্যা” নাকি হত্যা?
মমিনের ময়নাতদন্তে আত্মহত্যা উল্লেখ থাকলেও তার দ্বিতীয় স্ত্রী শাহানা, তার প্রথম স্ত্রীর মা এবং স্থানীয় কয়েকজনের দাবি—মমিনকে হত্যা করে পরে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। শাহানার অভিযোগ, ‘মমিনকে হত্যার জন্য বাইরে থেকে লোক আনা হয়েছিল।’ যদিও তার এই দাবির প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। মমিনের মৃত্যুর পর মামলা করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়ার অভিযোগও করেন শাহানা। তার দাবি, তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছিল এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে তিনি সাক্ষী বা বাদী সংগ্রহ করতে পারেননি। তাকে মামলাও করতে দেওয়া হয়নি।মমিনের প্রথম স্ত্রীও ছিলেন মায়ের হত্যা মামলার আসামি
মহিউদ্দিনের মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় মমিনের প্রথম স্ত্রী শিরিন আক্তার লাবনী ছিলেন ১ নম্বর আসামি। মহিউদ্দিনের স্ত্রী তাসনুভা আক্তার স্বপ্না ছিলেন ২ নম্বর এবং মহিউদ্দিন ৩ নম্বর আসামি। মমিনের মৃত্যুর ঘটনাপ্রবাহে লাবনীর নামও সামনে আসায় তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার শুকানপুকুর ইউনিয়নের তেলিহাটা গ্রামে যায় নাগরিক প্রতিদিনের অনুসন্ধানী দল। লাবনী সরাসরি কথা বলতে রাজি না হলেও তার মায়ের সঙ্গে কথা হয়। তিনি দাবি করেন, মমিনের মৃত্যুর আগেরদিন মহিউদ্দিন লাবনী কে তার বাড়িতে ডেকেছিল উদ্দেশ্য ছিলো মমিনকে হত্যা। কিন্তু তার মেয়ে যায়নি বলে দাবি লাবনীর মায়ের। পরদিন রাতে কয়েকজন লোক গাড়িতে করে এসে মমিনকে মেরে ফেলে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে লাবনীর পরিবারের পক্ষ থেকে মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দিতে অনীহা দেখা যায়। স্থানীয়দের মুখে মহিউদ্দিনের প্রভাব…
বগুড়ায় অনুসন্ধানের সময় একাধিক স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে একই ধরনের বক্তব্য পাওয়া যায়—মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পান তারা।
কেউ নিয়োগের জন্য টাকা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন, কেউ টাকা দিয়েও চাকরি না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি অধিকাংশ ব্যক্তি।
মহিউদ্দিনের প্রতিবেশী নূর আলম অভিযোগ করেন, তার ছেলের চাকরির জন্য বিদেশ থেকে দেশে আনায় মহিউদ্দিন, এরপর ফায়ার সার্ভিসের অফিস সহকারি হিসেবে চাকরি দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন মহিউদ্দিন, চাকরির বিনিময়ে ২৫ লাখ টাকা অথবা ৪০ শতাংশ জমি। এরপর চাকরি দিতে না পারায় , পরে টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে কয়েকবার মহিউদ্দিনের সঙ্গে বিরোধ হয় নূর আলমের।
তিনি আরও জানান, এলাকায় একাধিক ব্যক্তিকে চাকরি দিয়েছেন মহিউদ্দিন। তার মা ও ভাইয়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, মহিউদ্দিনের প্রচুর টাকা, একাধিক সম্পত্তির মালিক সে সবকিছু ম্যানেজ করতে পারে কিন্তু স্পষ্ট কিছু বলে না। বয়স জালিয়াতির অভিযোগ….মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগের পাশাপাশি উঠে এসেছে বয়স জালিয়াতি করে চাকরি দেওয়ার অভিযোগও। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, মহিউদ্দিন তার আপন বোনের স্বামী শাহজালাল মণ্ডলকে ৪৬ বছর বয়সে ফায়ার সার্ভিসে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। চাকরিতে প্রবেশের নির্ধারিত বয়সসীমা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও কীভাবে শাহজালাল মণ্ডল নিয়োগ পেলেন—তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, শাহজালাল মণ্ডলের বয়সসংক্রান্ত তথ্যের অসঙ্গতির প্রমাণও অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, মহিউদ্দিনের প্রভাবেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এই অনিয়ম সম্ভব হয়েছে।
নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগ…..মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে ফায়ার সার্ভিসে নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে। ১১ আগস্ট ২০২৬ দুদকে দেওয়া একটি অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ফায়ার ফাইটার ও চালক নিয়োগে কোটি কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হয়েছে। অভিযোগপত্রে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জন নিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব নিয়োগে মহিউদ্দীন পরিকল্পনাকারী বা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একই অভিযোগে বদলি প্রক্রিয়ায় আর্থিক লেনদেন, প্রভাব বিস্তার এবং অল্প সময়ে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। নিজের ফুপুরও গুরুতর অভিযোগ……অনুসন্ধানে মহিউদ্দীনের নিজের ফুপু সালেমা বেগমের সঙ্গেও কথা বলে নাগরিক প্রতিদিন। তিনি মহিউদ্দীনের বিরুদ্ধে তার মা ও ভাইয়ের মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ করেন। পাশাপাশি নিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়েও তিনি তথ্য দেন।চাচাতো ভাইয়ের বক্তব্যেও নিয়োগের প্রসঙ্গ…..মহিউদ্দীনের চাচাতো ভাই আব্দুল আলীম একজন মাদ্রাসাশিক্ষক। প্রথমে কথা বলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলেও পরে তিনি নাগরিক প্রতিদিনের সঙ্গে কথা বলেন।নিজের জমি নিয়ে মহিউদ্দীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার পাশাপাশি নিয়োগ-বাণিজ্যের অভিযোগের বিষয়েও তিনি কথা বলেন। তার দাবি, তাদের এলাকায় অনেক মানুষকে টাকার বিনিময়ে ফায়ার সার্ভিসে চাকরি দিয়েছেন মহিউদ্দীন। মমিন মাদকাসক্ত ছিলেন—এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে আব্দুল আলীম বলেন, ছোটবেলা থেকে মমিনকে দেখলেও তাকে কখনো মাদক গ্রহণ করতে দেখেননি বা এ ধরনের কোনো কথা শোনেননি।গাইবান্ধায় গার্মেন্টসের সন্ধান….. মহিউদ্দীনের সম্পদ অর্জনের অভিযোগের সূত্র ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে গাইবান্ধার মহিমাগঞ্জ উপজেলার কচাশহর গ্রামে যায় টিম ব্লুপ্রিন্ট। সেখানে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে মহিউদ্দীনের একটি গার্মেন্টস থাকার তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়। তবে স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম প্রায় দেড় মাস ধরে বন্ধ। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, গার্মেন্টসটি বিক্রি করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মহিউদ্দীন। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন……..মহিউদ্দীনের বিরুদ্ধে তার মা ও ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশকে প্রভাবিত করার অভিযোগও করেছেন শাহানা আক্তার। তার দাবি, এসআই রিপন মিয়া বিভিন্ন সময়ে মহিউদ্দীনকে সহযোগিতা করেছেন। মমিনকে উদ্ধার, তার মায়ের মৃত্যুর ঘটনা এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে পুলিশ কর্মকর্তার ভূমিকা কী ছিল—তা জানতে সংশ্লিষ্ট এসআই রিপন মিয়ার সঙ্গে কথা হয় টিম ব্লুপ্রিন্টের। রিপন মিয়া জানান এ ঘটনা অনেক আগের এ মুহূর্তে এটা নিয়ে কথা বলতে চান না তিনি। তিনি আরও বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন তিনি আদালতে জমা দিয়েছেন, এরপর তার আর কনো দায়ভার নেই, বলে তড়িঘড়ি করে ফোনের লাইনটি কেটে দেন। মহিউদ্দীনের বক্তব্য..……অভিযোগগুলোর বিষয়ে মহিউদ্দীন খন্দকার মিজানের সঙ্গে নাগরিক প্রতিদিনের পক্ষ থেকে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি কোনো ফোন রিসিভ করেননি। অধিদপ্তরের তদন্ত চলছে……ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল বলেন, মহিউদ্দীনের বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগের তদন্তও চলমান। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সরকারি বিধি-বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।নিরাপত্তা চেয়েছেন ভুক্তভোগীরা….এদিকে, মহিউদ্দীনের বিরুদ্ধে অভিযোগকারী ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজন নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন। বিশেষ করে মমিনের দ্বিতীয় স্ত্রী শাহানা আক্তারসহ সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, মহিউদ্দীনের প্রভাব ও আর্থিক সক্ষমতা এতটাই বেশি যে তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতেও ভয় পান স্থানীয়রা। তাদের ভাষ্য, ‘মহিউদ্দীনের অনেক টাকা ও প্রভাব রয়েছে। সে পারে না—এমন কোনো কিছু নেই।’ এ কারণে অভিযোগের বিষয়ে কথা বলা, সাক্ষ্য দেওয়া কিংবা আইনগতভাবে এগিয়ে আসার ক্ষেত্রেও অনেকে আতঙ্কে রয়েছেন বলে দাবি তাদের।মমিনের দ্বিতীয় স্ত্রী শাহানা আক্তার নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, স্বামীর মৃত্যুর ঘটনায় সত্য তুলে ধরতে গিয়ে তিনি নানা ধরনের চাপ ও হুমকির মুখে পড়েছেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি অভিযোগকারী ও সম্ভাব্য সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি। তারা বলছেন, ভয়মুক্ত পরিবেশে সাক্ষ্য ও তথ্য প্রকাশের সুযোগ না থাকলে মহিউদ্দীনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্য বের করে আনা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। যদিও, তার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, দুদক এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে একাধিকবার অভিযোগ পত্র জমা দেয়াও হয়েছে।মহিউদ্দীনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর অধিকাংশেরই এখনো চূড়ান্ত আইনগত নিষ্পত্তি হয়নি। ফলে নিয়োগ-বাণিজ্য, সম্পদ অর্জন, মা ও ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ফলই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।তবে সরেজমিন অনুসন্ধানে যে প্রশ্নগুলো সামনে এসেছে—নিয়োগে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ, পরিবারের দুই সদস্যের মৃত্যু, মমিনকে বিভিন্ন স্থানে আটকে রাখার অভিযোগ এবং স্থানীয়দের মধ্যে দৃশ্যমান আতঙ্ক—এসব বিষয়ে কার্যকর ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি এখন আরও জোরালো হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

  1. © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : কুমিল্লার খবর