
মোঃ আব্দুল জলিল ভূইয়া,কুমিল্লা।।
কুমিল্লায় এবার কোরবানির ঈদ সামনে রেখে চাহিদার তুলনায় বেশি পশু প্রস্তুত করেছেন খামারি ও গৃহস্থরা। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের হিসাবে, ১৭ উপজেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে প্রায় আড়াই লাখের বেশি গবাদি পশু। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত প্রায় ১১হাজার পশু অন্য জেলাতেও সরবরাহ করা যাবে। তবে সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় খামারিদের মধ্যে ভারত থেকে অবৈধভাবে গরু প্রবেশের শঙ্কাও রয়েছে।খামারিদের অভিযোগ, প্রতি বছরই কোরবানির হাট শুরুর আগে সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু ঢুকে পড়ায় দেশি পশুর দাম কমে যায়। এতে লোকসানে পড়তে হয় খামারিদের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সীমান্ত পথে অবৈধভাবে ভারতীয় পশু এলে স্থানীয় খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এতে ভবিষ্যতে তারা পশুপালনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন।এ বিষয়ে কুমিল্লা ১০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ বলেন, ‘ঈদ সামনে রেখে সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হবে। বিশেষ করে শাহপুর ও শিবের বাজার সীমান্তকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে অতিরিক্ত নজরদারি চালানো হবে।’এদিকে কুমিল্লা জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্র মতে, এ বছর কুমিল্লার ১৭ উপজেলায় কোরবানির জন্য ২ লাখ ৫৯ হাজার গবাদি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২ লাখ ৭১৭টি গরু, ১ হাজার ৭৪৮টি মহিষ, ৫৪ হাজার ৮৫২টি ছাগল, ৩ হাজার ২৩৫টি ভেড়া ও অন্যান্য পশু ১৯৬টি। এর মধ্যে জেলাজুড়ে কোরবানির চাহিদা রয়েছে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৫৮৬টি পশু। সেই হিসেবে চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত থাকবে প্রায় ১২ হাজার পশু।কুমিল্লায় কোরবানির পশুর কোনো সংকট হবে না জানিয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামছুল আলম বলেন, ‘জেলায় প্রায় ৩৬ হাজার খামারি রয়েছেন। চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত আছে।’সদর দক্ষিণ উপজেলার বামিশা ক্যাটেল ফার্মের পরিচালক সবুর আহমেদ বলেন, ‘কোরবানির ঈদ সামনে রেখে বড় আকারের কয়েকটি গরু প্রস্তুত করেছি। ভারতীয় গরু অবৈধভাবে না এলে স্থানীয় খামারিরা ভালো দাম পাবেন।’চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মাসকরা এলাকার গৃহস্থ আবদুর রহমান জানান ‘কয়েকটি গরু লালন-পালন করেছি। সীমান্তে কড়াকড়ি থাকলে দেশি গরুর দাম ভালো পাওয়া যাবে