
কুমিল্লার খবর আন্তর্জাতিক অনলাইন নিউজ ডেস্ক।।
গাজার পরিবার যখন তাদের তাঁবু সাজানোর চেষ্টা করছে, তখন মাইসুন আল-বারবারাউইয়ের ছেলে রমজানের লণ্ঠন ঝুলিয়ে রাখছে ছবি: সংগৃহীত
গাজার পরিবার যখন তাদের তাঁবু সাজানোর চেষ্টা করছে, তখন মাইসুন আল-বারবারাউইয়ের ছেলে রমজানের লণ্ঠন ঝুলিয়ে রাখছে 
দীর্ঘ দুই বছরের ভয়াবহ যুদ্ধের পর এবার কিছুটা আপেক্ষিক শান্তিতে পবিত্র রমজান মাস শুরু করেছেন গাজাবাসীরা। গত ১০ অক্টোবর ২০২৫ থেকে কার্যকর হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ফলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও, যুদ্ধের ক্ষত আর অনিশ্চয়তা এখনো প্রতিটি তাঁবুর কোণে মিশে আছে। উম্মে মোহাম্মদ নামে পরিচিত মাইসুন আল-বারবারাওয়ি তাঁর ৯ বছরের ছেলের জন্য একটি ছোট্ট ফানুস কিনতে পেরে ক্লান্তির মাঝেও হাসছেন। তিনি বলেন, আমার সামর্থ্য সীমিত, কিন্তু শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোই এখন বড় কথা। এই সাজসজ্জার মাধ্যমে আমি গত দুই বছরের শোক আর বিষণ্ণতার পরিবেশ থেকে বেরিয়ে আসতে চেয়েছি। গাজা উপত্যকা, গাজায় রমজানের প্রস্তুতি নিচ্ছেন মাইসুন আল-বারবারাউই, তার স্বামী হাসোনা এবং তাদের ছেলে হাসান , দক্ষিণ-পূর্ব গাজায় নিজের বাড়ি হারিয়ে মাইসুন এখন ব্যুরেইজ শিবিরের মানবেতর পরিবেশে বসবাস করছেন। এবারের রমজানে বোমা বর্ষণের তীব্রতা কমলেও মাঝেমধ্যেই গোলার শব্দে কেঁপে ওঠে তাঁর তাবু। গত বছর রমজানের দ্বিতীয় সপ্তাহে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হওয়া এবং পরবর্তী দীর্ঘ দুর্ভিক্ষের স্মৃতি তাঁকে এখনো আতঙ্কিত করে তোলে।
গাজার বাজারে বর্তমানে কিছু খাদ্যদ্রব্য পাওয়া গেলেও আকাশচুম্বী দামের কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা প্রায় শূন্য। ফলে অধিকাংশ পরিবারকেই ত্রাতা সংস্থাগুলোর দেওয়া খাদ্য সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। গাজা উপত্যকা, পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার সাথে সাথে দুই বছরের যুদ্ধের পর গাজার অন্যতম প্রধান কেন্দ্রীয় বাজার আল-জাওইয়া মার্কেটে নতুন করে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে,দেইর আল-বালাহ শিবিরের ৫৫ বছর বয়সী হানান আল-আত্তার ১৫ জন সদস্য নিয়ে একটি তাঁবুতে থাকেন। প্রথম রমজানে একটি ত্রাণ সংস্থা থেকে পাওয়া পার্সেল খুলে তিনি কিছুটা স্বস্তি পেলেন। ডাল, তেল, হালুয়া আর খেজুরের সেই প্যাকেট দেখে তিনি বলেন, কালকের সেহরির জন্য এটি উপযুক্ত হবে। তবে অভাবের সংসারে পুষ্টির অভাব মেটাতে সামান্য জমানো টাকা দিয়ে এক কেজি মাংস কেনার গোপন ইচ্ছাও লালন করছেন তিনি।
রমজানের প্রস্তুতি থাকলেও হানানের আনন্দ ম্লান হয়ে যায় দুই ছেলের অনুপস্থিতিতে। গত বছর ইসরাইলি হামলায় তাঁর দুই তরুণ ছেলে নিহত হয়েছেন। অশ্রুভেজা চোখে তিনি বলেন, পরিবার যখন একসাথে খেতে বসে এবং কেউ অনুপস্থিত থাকে, তখন সেই ব্যথা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। গাজার বর্তমান অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ বা ফ্রিজের কোনো সুবিধা নেই। ফলে প্রতিদিনের খাবার প্রতিদিন সংগ্রহ করতে হয়। রান্নার গ্যাস এখন গাজাবাসীর কাছে গুপ্তধনের মতো। গত দুই বছর ধরে লাকড়ির আগুনে রান্না করা হানান জানান, দুই মাস আগে আট কেজির একটি গ্যাস সিলিন্ডার কোনোমতে জোগাড় করেছিলেন, যা তিনি জমিয়ে রেখেছিলেন শুধু রমজানের সেহরিতে দ্রুত রান্নার জন্য।
মাইসুন বা হানান- সবার মনেই এখন একটিই বড় আতঙ্ক, আবার কি যুদ্ধ ফিরবে? গত বছরের দুর্ভিক্ষের স্মৃতি তাদের তাড়িয়ে বেড়ায়। মাইসুনের ছোট ছেলেটি ক্ষুধার জ্বালায় একসময় মৃত্যুর জন্য প্রার্থনা করত। সেই দুঃসহ দিনগুলো যেন আর ফিরে না আসে, সেটিই এখন গাজার মানুষের সেহরি ও ইফতারের প্রধান প্রার্থনা।
সিরিয়া থেকে ফিরতে চাওয়া নাগরিককে নিষিদ্ধ করল অস্ট্রেলিয়াসিরিয়া থেকে ফিরতে চাওয়া নাগরিককে নিষিদ্ধ করল অস্ট্রেলিয়া তাঁবুর দেয়ালে বুলেটের চিহ্ন দেখিয়ে মাইসুন বলেন, আমার প্রতিদিনের প্রার্থনা হলো যুদ্ধ যেন আর না ফেরে। সেনারা যেন আমাদের জমি ছেড়ে চলে যায় এবং আমরা যেন শান্তিতে নিজেদের ঘরে ফিরতে পারি।