
তৌহিদ হোসেন সরকার।।
গোলামি নয়, আজাদির বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীরে জামায়াত ডাঃ শফিকুর রহমান বলেছেন, “জুলাই এসেছে আল্লাহর নেয়ামত হিসেবে। জেল-জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েও আমরা দেশ ছাড়িনি, ভবিষ্যতেও ছাড়বো না।” কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত এক বিশাল জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় কুমিল্লার উন্নয়ন, ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন এবং ভোটাধিকার নিশ্চিতের দাবিতে নেতৃবৃন্দ জোরালো বক্তব্য দেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আমীর ডা.শফিকুর রহমানশুক্রবার কুমিল্লা পৃথক ২টি জনসভায় প্রধান অতিথি বক্তব্য তিনি এ কথা।তিনি সন্ধা ৬টায় কুমিল্লা লাকসাম স্টেডিয়াম রাত ৮টায় কুমিল্লা টাউন হল মাঠে ১১ দলীয় জোটের সমাবেশে তিনি বক্তব্য রাখেন। সমাবেশে বিশেষ অতিথি বক্তব্য রাখেন, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা.সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারী জেনারেল সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারি সেক্রেটারী জেনারেল ও কুমিল্লা অঞ্চল পরিচালক মাওলানা এটিএম মাসুম, ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কাইয়ুম,এনসিপির দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক কুমিল্লা -৪ আসনের প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ।
জাগপার সভাপতি ইন্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের আমীর ও কুমিল্লা -আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী কাজী দ্বীন মোহাম্মদ এর সভাপতিত্বে মহানগর সেক্রেটারী মু.মাহবুবর রহমান এর পরিচালনায় জনসভায় বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় মজলিশ শুরা সদস্য ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর মোহাম্মদ শাহজাহান এডভোকেট,
উত্তর জেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল মতিন, কুমিল্লা -১০ আসনেরদাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী মাওলানা ইয়াছিন আরাফাত, কুমিল্লা -৮ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী ড.শফিকুল আলম হেলাল,কুমিল্লা -৫ দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী ড.মোবারক হোসেন,কুমিল্লা -৯ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী ড.সৈয়দ সরোয়ার উদ্দিন সিদ্দিকী,কুমিল্লা -৭:আসনে ঘড়ি প্রতিকের প্রার্থী মাওলানা সোলায়মান খান,কুমিল্লা -৩ দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী ইউসুফ হাকিম সোহেল, কুমিল্লা -২ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী নাজিম উদ্দিন মোল্লা,কুমিল্লা -১ আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী মনিরুজ্জামান বাহালুল।
জাকুসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম,কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের নায়েবে আমীর যথাক্রমে মু মোছলেহ উদ্দিন ও অধ্যাপক এ কে এম এমদাদুল হক মামুন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান ভুঁইয়া, এনসিপি অঞ্চল সমন্বয়ক নভিদ নৌরজ শাহ,খেলাফত মজলিশ কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাদের জামাল,বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি মো.সোলায়মান, এবিপাটি কুমিল্লা জেলা সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ তৌফিক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি অধ্যক্ষ মজিবুর রহমান,কুমিল্লা মহানগরী সহকারি সেক্রেটারী যথাক্রমে কামারুজ্জামান সোহেল, কাউন্সিল মোশারফ হোসাইন, নাছির আহম্মেদ মোল্লা।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন আবির,কুমিল্লা মহানগরী ছাত্রশিবির সভাপতি হাসান আহম্মেদ,লাকসামে নির্বাচনী জনসভায় আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান কুমিল্লার লাকসাম স্টেডিয়ামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করলেন আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান। লাকসাম নির্বাচনী জনসভায় আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান,কুমিল্লা-৯ আসনে সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. ছৈয়দ একেএম সরওয়ার উদ্দিন ছিদ্দিকীর সভাপতিত্বে নির্বাচনী জনসভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন,
,সাবেক সচিব এএফএম সোলায়মান চৌধুরী, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের সাবেক ভিপি অধ্যাপক রেজাউল করিম,কুমিল্লা-১০ আসনে দাঁড়িপাল্লার নির্বাচন পরিচালক ডঃ দেলোয়ার হোসাইন, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি আব্দুল হক আমিনী,ঢকা দক্ষিণ জেলা জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান সোহাগ, সাবেক ছাত্রনেতা নোমান হোসেন নয়ন, ঢাকা মহানগর জামায়াত নেতা মুহাম্মদ সিরাজুল হক,
খেলাফত মজলিশ লাকসাম উপজেলা সভাপতি মুফতি মাহবুবুর রহমান, এনসিপি কুমিল্লা জেলা সমন্বয়ক ব্যারিস্টার মাজহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোহরগঞ্জ উপজেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল হামিদ, কুমিল্লা জেলা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বদিউল আলম সুজন,
কুমিল্লা-৯ আসনে দাঁড়িপাল্লার নির্বাচন পরিচালক ও লাকসাম পৌরসভা জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারী, সদস্য সচিব ও উপজেলা জামায়াতের আমীর হাফেজ জহিরুল ইসলাম, মনোহরগঞ্জ উপজেলা আমীর হাফেজ মাওলানা নূরুন্নবী, কুমিল্লা জেলা ছাত্রশিবির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।সভাপতির বক্তব্যে কাজী দ্বীন মোহাম্মদ বলেন,“অবহেলিত কুমিল্লার পক্ষে কথা বলার অনুরোধ জানাই। কুমিল্লা নামেই বিভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে এবং বিমানবন্দর চালু করতে হবে।
কুমিল্লায় কোনো চাঁদাবাজের স্থান হবে না। গ্যাস সংকট, জলাবদ্ধতা নিরসন করে আমরা একটি আধুনিক কুমিল্লা গড়তে চাই।”সাদেক কায়ীম বলেন,“আমরা ফ্যামিলি কার্ড চাই না, আমরা ফ্যামিলির সদস্য হতে চাই।”এটিএম মাছুম বলেন,“কথা আর কাজের মধ্যে মিল থাকতে হবে। আমরা একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের জন্য কাজ করছি। মানুষের অধিকার আদায়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে যেতে হবে।”মিজা গোলা বলেন, “যারা আপনারব আপনার বাবাকে হত্যা করেছে, তারা আপনাকেও ছাড়বে না—এই বাস্তবতা আমাদের বুঝতে হবে।
”সভায় আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন,“ছাপ্পান্ন বছরের গোলামি না আজাদী—এই প্রশ্নের জবাব আজ কুমিল্লাবাসী দিয়েছে। কুমিল্লা বিভাগ ছাড়া কিছুই চাই না। বিভাগটির নাম হবে ‘কুমিল্লা বিভাগ’। বিমানবন্দর চালু করতে নতুন কাজের দরকার নেই, শুধু উদ্বোধনই যথেষ্ট। ঢাকা-চট্টগ্রাম আট লেন সড়ক এবং গোমতী নদীর বাঁধ উঁচু করে নির্মাণের জোর দাবি জানাই।”প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন, “কুমিল্লা নামেই বিভাগ বাস্তবায়ন হতে হবে। বিমানবন্দরের পাশে ইপিজেড থাকলেও কোনো সমস্যা নেই—বিমানবন্দর চালু হবেই। আমরা কারো হক নষ্ট করবো না।”তিনি আরও বলেন, “সবচেয়ে মজলুম দলের নাম জামায়াতে ইসলামী।
আমরা কোনো দলের কেন্দ্রীয় নেতাকে হত্যা করিনি, কারো বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেইনি। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত শহীদ পরিবারগুলোর পাশে আমরা দাঁড়িয়েছি। শহীদ পরিবারের চোখে আজও আর্তনাদ—শহীদের এতিম সন্তান প্রশ্ন করে, ‘আমার বাবা কবে আসবে?’” যুব সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “কিছু মানুষ পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী পরিবেশ সৃষ্টি করছে—এগুলো পরিহার করুন। প্রয়োজনে কুমিল্লার যুবকদের আবারও রাস্তায় নামতে হবে ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে। আমরা কোনো যুবকের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিতে চাই না—যুবকরা বলবে, ‘আমি বাংলাদেশ’।” রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়ে তিনি বলেন,“রাষ্ট্র থেকে সমাজ পর্যন্ত ইনসাফ কায়েম করা হবে।
পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি চাই না—মেধা ও যোগ্যতা থাকলে একজন কৃষকের সন্তানও প্রধানমন্ত্রী হতে পারবে। মাস্টার্স পর্যন্ত ছাত্রীদের সরকারি খরচে শিক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। নারীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।”তিনি আরও বলেন,“রাষ্ট্র হবে নিরপেক্ষ। কোনো ধর্মীয় পরিচয়ে নয়—আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি। মিডিয়া জাতির বিবেক—কেউ যেন চাঁদাবাজির পক্ষে না যায়। মিডিয়া কর্মীরা দেশগঠনের যোদ্ধা।”