
মনোয়ার হোসেন,চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি।।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মহাসড়কের পাশের অবৈধ স্থাপনা ও ফুটপাত দখল করে বসা অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি) দুপুরে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাফকাত আলীর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালতের এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ, মিয়াবাজার হাইওয়ে পুলিশ এর পৃথক দু’টি টিম সহ চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ সার্বিক সহযোগিতা করেন। জানা গেছে, মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে বসা বিভিন্ন দোকানপাট ও ফুটপাতের উপর অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গণসচেতনতামূলক মাইকিং সহ বিভিন্ন প্রচারণা করে আসছে। প্রচারণা ও উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী গত বুধবার এর মধ্যে সকল অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার কথা থাকলেও অবৈধ দখলদাররা তা না করে বরং বৃহস্পতিবার সকালেও নিজ নিজ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলো। এছাড়াও মহাসড়কের পাশের বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা ফুটপাতের উপর অবৈধভাবে নির্মিত বিভিন্ন স্থাপনা না সরিয়ে বরং সেখানে দোকানের মালামাল রেখে নিজ নিজ ব্যবসা পরিচালনা অব্যাহত রাখে। পূর্ব নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রশাসন বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম বাজার এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও বাজারের যানজট নিরসন ও শৃঙ্খলা রক্ষার্থে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে। এ সময় বুলডোজার দিয়ে মহাসড়কের পাশের সকল অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। অবৈধভাবে বসা সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের চৌকি সহ মালামাল জব্দ এবং অবৈধ সকল দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। দীর্ঘদিন পর এমন অভিযান পরিচালনা করায় উপজেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ভুক্তভোগি পথচারী, চৌদ্দগ্রাম বাজারের ব্যবসায়ীরা সহ স্থানীয় সচেতন মহল।এদিকে অভিযানকালে চৌদ্দগ্রাম বাজারে অবৈধ পার্কিং করে কৃত্রিম যানজট সৃষ্টি সহ সড়ক আইন ভঙ্গের দায়ে কুমিল্লা-ফেনী রুটের যাত্রীবাহী একটি যমুনা বাস (চট্ট মেট্রো-জ-১৪-১০৮৭) এর চালক মো. জালালকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও এদিন একটি ভেটেরিনারী ঔষধ দোকানে বোতলজাত তরল গরুর দুধের সাথে গুরুর মাংসের চর্বি সংরক্ষণের দায়ে বাজারের এক ব্যবসায়ী মোটা অংকের জরিমানা করা হয়। মহাসড়কের যানজট নিরসন, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে উপজেলা প্রশাসনের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাফকাত আলী।