
নিজস্ব প্রতিবেদক কুমিল্লা।।
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির সঙ্গে বাইকে থাকা বা নিখোঁজ হওয়ার রাতে তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিটি হলেন তাঁর বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপ। তাঁর সম্পর্কে এবং ঘটনার রাতের বিষয়গুলো নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো:
পরিচয় ও সম্পর্ক: আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপের সঙ্গে তাহসিফের সম্পর্ক বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ ছিল। তাহসিফ সম্প্রতি নিরাপত্তাকর্মী সরবরাহের যে ব্যবসা শুরু করেছিলেন, দ্বীপ সেটি দেখাশোনা করতেন। এছাড়া উভয়ের পরিবারের মধ্যেও ভালো সম্পর্ক রয়েছে। যেভাবে সম্পৃক্ততা: গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যার দিকে দ্বীপের ডাকেই উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে নিচে নেমেছিলেন তাহসিফ। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পার্কিংয়ে সাক্ষাতের পর তারা মোটরসাইকেল নিয়ে বাইরে যান। দ্বীপের বক্তব্য: দ্বীপের ভাষ্য অনুযায়ী, তাহসিফের মোটরসাইকেলে সমস্যা থাকায় তারা প্রথমে ওয়ার্কশপে যান এবং সেটি ঠিক করান। এরপর উত্তরার রুআপ শপিং কমপ্লেক্সের একটি রেস্তোরাঁ থেকে রাতের খাবার খান। খাবার শেষে তারা নিজ নিজ বাইকে করে ফিরছিলেন এবং উত্তরা হাউজ বিল্ডিং পর্যন্ত একসঙ্গে ছিলেন। রাত ১২টার দিকে সেখান থেকে ইউটার্ন নিয়ে তিনি নিজের বাসায় চলে যান এবং তাহসিফ অন্যদিকে চলে যান বলে দাবি করেন দ্বীপ।
অমীমাংসিত রহস্য ও মোটরসাইকেল নিখোঁজ: ঘটনার পরদিন তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটির এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পরিবার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্বীপের দেওয়া তথ্য এবং সামগ্রিক ঘটনা খতিয়ে দেখছে। কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত পুলিশ বা চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি। এটি হত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা জানতে ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এবং পুলিশের তদন্তের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ বিষয়ে পরিবার ও পুলিশের পক্ষ থেকে পাওয়া তথ্যগুলো নিচে দেওয়া হলো:
পরিবারের দাবি (হত্যাকাণ্ড): তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তাঁর ছেলের আত্মহত্যার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। নিখোঁজ হওয়ার আগে তিনি সারাদিন মায়ের সঙ্গে কেনাকাটা করেছিলেন এবং তাঁর মানসিক অবস্থা অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও স্বাভাবিক ছিল। পরিবারের ধারণা, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদন: তুরাগ নদ থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ যে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে, তাতে শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি, তবে নাক দিয়ে রক্তক্ষরণের আলামত এবং পেট কিছুটা ফোলা ছিল। পরবর্তীতে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা ভিসেরা পরীক্ষার জন্য তাঁর নমুনা ল্যাবরেটরিতে পাঠিয়েছেন। পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর আসল কারণ জানা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন তারপর ২০২৪ ইং বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশত্যাগের ভিডিও ধারণের পর তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল কে এম তাহসিফ সাউরি। তিনি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একজন সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট ছিলেন। ছবি ও তাঁর সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে পুরো বিষয়টি নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো: আলোচনায় আসার কারণ: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময়কার আলোচিত সেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তাকে বিমানবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত (বাধ্যতামূলক অবসর) করা হয়েছিল বলে জানা যায়। হঠাৎ নিখোঁজ হওয়া: গত ২৬/২৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর পর, সন্ধ্যার দিকে এক জুনিয়রের ফোন পেয়ে তিনি ঢাকার উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে বের হন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাতে তিনি “আম্মু আমি আসছি” বলে একটি ম্যাসেজ পাঠালেও আর ফিরে আসেননি। মরদেহ উদ্ধার: নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর, অর্থাৎ ২৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে রাজধানীর উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। শনাক্তকরণ ও বর্তমান পরিস্থিতি: শুরুতে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া না গেলেও পকেটে থাকা আইফোন ও হাতঘড়ি দেখে মরদেহটি সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির বলে শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।