1. news@cumillarkhobor.com : কুমিল্লার খবর : কুমিল্লার খবর cumillarkhobor
  2. info@www.cumillarkhobor.com : কুমিল্লার খবর :
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আপনার সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে—খোঁজ রাখছেন তো অভিভাবকরা? ‎কুমিল্লা জামায়াতে ‘মামুন-মাহবুব গ্রুপ’ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ অধ্যাপক মামুনের কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড়ে অটো রিক্সার ধাক্কায় এক সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা নিহত!! কুমিল্লায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথবাহিনী একত্রে মাঠ পর্যায়ে পর্যবেক্ষণে থাকবেন…..জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কুমিল্লা  কুমিল্লায় জামায়াত কার্যালয়ে সংঘর্ষে জড়িত এবি পার্টি নেতা,গোলাম সামদানী কে দল থেকে অব্যাহতি কুমিল্লায় বিজিবির অভিযানে ৩৯ লাখ টাকার ভারতীয় মালামাল জব্দ চট্টগ্রামে সাইবার পুলিশ সেন্টারের কার্যক্রমের শুভ সূচনা ও উদ্বোধন ; কুমিল্লায় উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের প্রস্তুতি কুমিল্লায় ‘চলো পাল্টাই’ শীর্ষক মাদকবিরোধী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত শেরপুর একাদশ ক্লাব আয়োজিত মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্ট-এর জাঁকজমকপূর্ণ ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত

আপনার সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে—খোঁজ রাখছেন তো অভিভাবকরা?

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬

আপনার সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে—খোঁজ রাখছেন তো অভিভাবকরা?

বিশেষ প্রতিবেদন।। 

একজন অভিভাবক হিসেবে সচেতন হন, সতর্ক হন, না হলে একদিন আপনাকেই পস্তাতে হবে!কুমিল্লার চার স্কুলছাত্রীর ঘরছাড়া হওয়ার ঘটনা অভিভাবকদের জন্য সতর্কবার্তা; স্মার্টফোনের পাশাপাশি সন্তানকে দিতে হবে সময়, সুশিক্ষা ও নৈতিকতার পাঠযে বয়সে বই-খাতা নিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা, বন্ধুদের সঙ্গে খেলাধুলা আর বাবা-মায়ের স্নেহে বেড়ে ওঠার কথা, সেই বয়সেই ঘর ছেড়ে অজানার পথে পা বাড়িয়েছে কুমিল্লার চার স্কুলছাত্রী। পরিবারের মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালংকার সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় যাত্রা, সেখানে বাসা ভাড়া নেওয়ার চেষ্টা, পরে সিলেটে চলে যাওয়া—সবশেষে পুলিশের হাতে উদ্ধার। ঘটনাটি স্বস্তির হলেও এর ভেতরে লুকিয়ে আছে পরিবার, সমাজ ও অভিভাবকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন।মাত্র ৮ থেকে ১৩ বছর বয়সে কীভাবে শিশুরা পরিবার ছেড়ে স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের পরিকল্পনা করল? তাদের মনে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার চিন্তা কেন এলো? বাবা-মায়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কেমন ছিল? এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি। কারণ, শুধু শিশুদের দোষারোপ করে এমন ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা সম্ভব নয়।

টিকটক-ফেসবুকের জগতে সন্তান, অভিভাবকরা কতটা সচেতন?

বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের জীবনের বড় অংশ হয়ে উঠেছে। টিকটক, ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বন্ধুত্ব গড়ে উঠছে, বাড়ছে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ। কিন্তু অনলাইনে পরিচিত সবাই যে বিশ্বস্ত, তা বোঝার মতো পরিপক্বতা অল্প বয়সী শিশুদের অনেকেরই থাকে না।চার শিক্ষার্থীর একাধিক ছেলে বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল বলে জানা গেলেও, তাদের বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্তে এসব সম্পর্কের ভূমিকা কতটা ছিল, তা নিশ্চিত নয়। তবে ঘটনাটি মনে করিয়ে দেয়, সন্তান অনলাইনে কী করছে, কার সঙ্গে কথা বলছে এবং কোনো বিষয়ে মানসিক চাপে আছে কি না, সে বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকা প্রয়োজন।সন্তানের হাতে স্মার্টফোন তুলে দিয়েই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। তাকে শেখাতে হবে প্রযুক্তির নিরাপদ ব্যবহার, অপরিচিত মানুষের প্ররোচনা থেকে সতর্ক থাকা এবং বিপদে পড়লে বিশ্বস্ত কারও সাহায্য নেওয়ার কৌশল।প্রতিটা পরিবারই শিশুর প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, একটি শিশু পরিবার থেকেই শিষ্টাচার, নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও ভালো-মন্দের পার্থক্য শেখে। কিন্তু সন্তানকে সঠিক পথে রাখতে শুধু শাসন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন ভালোবাসা, সময় এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক।অনেক সময় অভিভাবকরা কাজের ব্যস্ততায় সন্তানের মনের খবর নিতে পারেন না। আবার কোথাও অতিরিক্ত শাসন কিংবা পারিবারিক অশান্তির কারণে শিশুরা নিজেদের কথা বলতে সংকোচ বোধ করে। আবার কিছু বাবা মা রয়েছেন সন্তান যখন যেটা আবদার করছেন কোন কিছু চিন্তা না করেই দিয়ে দিচ্ছেন। সন্তান আপনার দেবেন তো আপনিই, কিন্তু সেটাতে।তার কতটা ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে সেটা একবার ভেবেচিন্তে দেন।পরে আবার আপনিই / আপনারাই পস্তাতে না হয়।তবু প্রত্যেক অভিভাবকের নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত—আমার সন্তান কি নির্ভয়ে নিজের সমস্যার কথা আমাকে বলতে পারে? ভুল করলে সে কি আমার কাছে সাহায্য চাইতে পারে, নাকি শাস্তির ভয়ে সবকিছু গোপন করে?প্রতিদিন কিছুটা সময় সন্তানের সঙ্গে কথা বলুন। তার বন্ধুদের সম্পর্কে জানুন, বিদ্যালয়ের অভিজ্ঞতা শুনুন, মনের কষ্ট বোঝার চেষ্টা করুন। সন্তানকে এমন পরিবেশ দিন, যেখানে বাইরের কারও প্ররোচনায় নয়, নিজের যেকোনো সমস্যা নিয়ে সে প্রথমে বাবা-মায়ের কাছেই আসতে পারে।

শুধু পুলিশের পক্ষে কি সব ঝুঁকি মোকাবিলা সম্ভব?

কুমিল্লার চার শিক্ষার্থীকে পুলিশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে—এটি অবশ্যই স্বস্তির খবর। কিন্তু অল্প বয়সে বাড়ি ছেড়ে অপরিচিত শহরে ঘুরে বেড়ানো শিশুদের জন্য কতটা বিপজ্জনক হতে পারত, তা সহজেই অনুমেয়। প্রতারণা, শোষণ কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার হওয়ার আশঙ্কা ছিল।শিশুদের উদ্ধার করা পুলিশের দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও, প্রতিটি শিশুর পারিবারিক পরিবেশ, মানসিক অবস্থা ও অনলাইন যোগাযোগের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা পুলিশের একার পক্ষে সম্ভব নয়। এ দায়িত্ব পরিবার, বিদ্যালয় এবং সচেতন সমাজেরও।সন্তানের আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন, বাড়ি ছাড়ার কথা বলা কিংবা অস্বাভাবিক গোপনীয়তা দেখা দিলে তাকে বকাঝকা না করে কারণ জানার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে বিশ্বস্ত শিক্ষক বা শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞের সহায়তা নিন।কুমিল্লার স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যাকাণ্ডের মতো মর্মান্তিক ঘটনা শিশুদের নিরাপত্তার গুরুত্ব আরও গভীরভাবে মনে করিয়ে দেয়।সন্তানকে শুধু নিয়ন্ত্রণ নয়, বুঝতেও শিখুন, অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান—সন্তানকে ভালো বিদ্যালয়ে পড়ানোর পাশাপাশি তাকে নৈতিক শিক্ষা দিন, দায়িত্ববোধ শেখান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সচেতন করুন। নিজের আচরণেও সংযম, সততা ও শ্রদ্ধাবোধের চর্চা করুন। কারণ, শিশুরা উপদেশের পাশাপাশি বড়দের আচরণ থেকেও শিক্ষা নেয়।সন্তানের হাতে দামি ফোন তুলে দেওয়া সহজ, কিন্তু তার মনের খবর রাখা, বিপদ-আপদ বোঝানো এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার যোগ্য করে গড়ে তোলাই প্রকৃত দায়িত্ব।মনে রাখবেন, সন্তান বিপথে যাওয়ার পর অনুশোচনা করার চেয়ে আগেই তার পাশে দাঁড়ানো অনেক বেশি জরুরি। কুমিল্লার চার স্কুলছাত্রীর ফিরে আসার ঘটনা যেন অভিভাবকদের জন্য নতুন উপলব্ধি হয়ে ওঠে। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, অনলাইনে কার সঙ্গে কথা বলছে—এসব বিষয়ে সচেতন হোন। শাসনের পাশাপাশি ভালোবাসা দিন, সময় দিন, সন্তানের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন।কারণ, একটি শিশুর নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা শুধু বাবা-মায়ের নয়, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমগ্র সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব।

আয়েশা আক্তার
সাংবাদিক
কুমিল্লা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : কুমিল্লার খবর