
স্টাফ রিপোর্টার।।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার শুয়াগাজী এলাকায় অবস্থিত রাহাত ফিলিং সেন্টারে তেল মজুদ করে রাখার অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের পর এক সাংবাদিকের ওপর হামলার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাংবাদিক মহলে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেল প্রায় ৫টার দিকে রাহাত ফিলিং সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।জানা যায়, রাহাত ফিলিং সেন্টারের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে তেল মজুদ করে রাখার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে “কুমিল্লার জমিন লাইভ” এ সংবাদ প্রকাশিত হলে পাম্প কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে তেল বিক্রি শুরু করে। এ ঘটনার জেরে “কুমিল্লার জমিন” এর স্টাফ রিপোর্টার সোহাইবুল ইসলাম সোহাগ ঘটনাস্থলে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে পাম্পের মালিকসহ একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট তার ওপর হামলার চেষ্টা চালায়। এ সময় দৈনিক সমাজকণ্ঠ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার জাহাঙ্গীর হোসেনকে হুমকি দেওয়া হয় এবং তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়ারও হুমকি দেয়া হয়।ভুক্তভোগী সাংবাদিক সোহাইবুল ইসলাম সোহাগ জানান, আমি সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে গেলে কয়েকজন ব্যক্তি হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে আমার দিকে তেড়ে আসে এবং আমার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
ঘটনার পরপরই কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সিরাজুল মোস্তফার নির্দেশে একটি পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে।তিনি বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এ বিষয়ে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী এনামুল হক ফারুক বলেন, সাংবাদিক সোহাইবুল ইসলাম সোহাগ তেল সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করতে গেলে তার ওপর হামলার চেষ্টা চালানো হয়। আমরা দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক শাহাজাদা এমরান বলেন, সোহাগ আমার পত্রিকার একজন দায়িত্বশীল রিপোর্টার। তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে তথ্য তুলে ধরতে ঘটনাস্থলে লাইভ করতে গিয়েছিলেন। লাইভ চলাকালীন সময়েই তার ওপর হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। আমরা অবিলম্বে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজন চন্দ্র রায় বলেন, বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখেছি। রাহাত ফিলিং সেন্টারের কর্তৃপক্ষ সাংবাদিক ভাইদের নিকট ক্ষমা চেয়েছে। আর তেল মজুদ যারা রাখবে আপনারা আমাদের নিকট এভাবে জানাবেন আমরা ব্যবস্থা নিব।