
নীতি-নির্ধারক সাংবাদিকতা এমন এক ধরণের সাংবাদিকতা, যা কেবল সংবাদ পরিবেশনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে। সঠিক তথ্য, গভীর অনুসন্ধান, নিরপেক্ষতা ও পেশাগত সততার মাধ্যমে এই সাংবাদিকতা নীতিনির্ধারক, সরকার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি সচেতন ও দায়িত্বশীল সংযোগ তৈরি করে।এ ধরনের সাংবাদিকতা সমাজের আয়না। এটি অনিয়ম, দুর্নীতি, বৈষম্য কিংবা অপশাসনের চিত্র তুলে ধরে সত্যকে সামনে আনে। একই সঙ্গে জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে এমন তথ্য উপস্থাপন করে, যা মানুষের ভাবনা ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।নীতি-নির্ধারক সাংবাদিকতার প্রধান বৈশিষ্ট্য: তথ্যভিত্তিক ও নিরপেক্ষ উপস্থাপন সংবাদ হতে হবে যাচাইকৃত, বস্তুনিষ্ঠ এবং পক্ষপাতমুক্ত। কোনো ব্যক্তি, দল বা প্রতিষ্ঠানের প্রভাবমুক্ত থেকে সত্য তুলে ধরাই এ সাংবাদিকতার মূল শক্তি।গভীর অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণ: শুধু ঘটনার বর্ণনা নয়—ঘটনার পেছনের কারণ, প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাও বিশ্লেষণ করা জরুরি।অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনেক সময় নীতিগত পরিবর্তন কিংবা প্রশাসনিক সংস্কারের পথ তৈরি করে।গণতান্ত্রিক চেতনা ও জনসম্পৃক্ততা: সচেতন নাগরিকই গণতন্ত্রের ভিত্তি। তাই জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট তথ্য সঠিকভাবে তুলে ধরা এবং মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাও নীতি-নির্ধারক সাংবাদিকতার দায়িত্ব।দায়িত্বশীলতা ও সতর্কতা: তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। অসম্পূর্ণ বা বিভ্রান্তিকর তথ্য সমাজে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। তাই প্রতিটি সংবাদ যাচাই করে প্রকাশ করাই পেশাগত নৈতিকতার অংশ।স্বাধীনতা ও স্বনির্ভরতা :সাংবাদিকতার শক্তি তার স্বাধীনতায়। আর্থিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা ছাড়া নির্ভীকভাবে সত্য বলা সম্ভব নয়। স্বনির্ভর সাংবাদিকতাই প্রকৃত অর্থে জনস্বার্থ রক্ষা করতে পারে।সংক্ষেপে বলা যায়, নীতি-নির্ধারক সাংবাদিকতা হলো দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা ও সাহসের সমন্বিত প্রয়াস। এটি শুধু খবর নয়—এটি সচেতনতা সৃষ্টি করে, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে এবং সমাজকে ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে নেয়।আপনি চাইলে এটিকে আরও আবেগঘন, শক্তিশালী সম্পাদকীয় ধাঁচে বা একাডেমিক রেফারেন্সসহ সাজিয়ে দিতে পারি।
লেখক সাংবাদিক- আয়েশা আক্তার
কুমিল্লা।