
স্টাফ রিপোর্টার।।
দীর্ঘ এক দশক ধরে সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে মামলা–হামলা, নির্যাতন, অপপ্রচার ও পেশাগত বঞ্চনার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাননীয় মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন–এর প্রতি খোলা চিঠি দিয়েছেন সাংবাদিক মোহাম্মদ মহিবুল্লাহ ভূঁইয়া (বাবুল)।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১০ বছর সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সাংবাদিকতা করতে গিয়ে দুর্নীতি, মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় তাকে একাধিক মামলা ও হামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে। নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তিনি থেমে না গিয়ে একক প্রচেষ্টায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার সরকারের সময় থেকে গত ২৪ আগস্ট পর্যন্ত তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিএনপির পক্ষপাতিত্বকারী সাংবাদিক হিসেবে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। পৌরসভা নির্বাচনের দিন কসামী ও নয়তলা কেন্দ্র দখলের প্রতিবাদ জানালে স্থানীয় চেয়ারম্যান নাজমুল ও ফারুকের অনুসারীদের হামলার শিকার হন বলেও তিনি দাবি করেন। সে সময় কিছু সুবিধাবাদী সাংবাদিক প্রতিবাদ না করে বরং তাকে সাংবাদিক নয় বলে অপপ্রচার চালায় এবং পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের কাছে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেয়।
মহিবুল্লাহ ভূঁইয়া বাবুল জানান, হামলার সময় তিনি দৈনিক মুক্তির লড়াই পত্রিকার বরুড়া উপজেলা প্রতিনিধি ও স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে তিনি “বাংলাদেশ পাবলিক টিভি সংবাদ”
নামে একটি অনলাইন সংবাদ প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করে আসছেন।চিঠিতে তিনি মন্ত্রীর মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে মন্ত্রীর ভূমিকা তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন। তবে সাংবাদিক জীবনের দীর্ঘ সময়ে নির্বাচনকালীন সংবাদ কাভারেজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিনি কোনো অনুদান বা সহযোগিতা পাননি বলে দুঃখ প্রকাশ করেন।তিনি আরও উল্লেখ করেন, নিজেকে অবহেলিত ও নিরুপায় মনে করেই তিনি খোলা চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি মন্ত্রীর নজরে আনছেন। বেয়াদবি হয়ে থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতারণা কখনো সভ্য সমাজের লক্ষণ নয়—এই বাস্তবতা তার বিবেককে নাড়া দিয়েছে।চিঠির শেষাংশে তিনি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নিরীহ ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসন ও সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
নিজেকে “বরুড়া উপজেলার একমাত্র অবহেলিত সাংবাদিক” উল্লেখ করে তিনি ন্যায়বিচার ও পেশাগত মর্যাদা পুনরুদ্ধারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।