
দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি।।
কুমিল্লার দাউদকান্দি থানায় গতকাল ‘কিশোর গ্যাং’বিরোধী অভিযানের নামে ৯ বছর বয়সী শিশুসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের আটকের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে অভিভাবক ও স্থানীয় জনতা থানা ঘেরাও করে ভেতরে হামলা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছে। পরে জনরোষের মুখে অবরুদ্ধ ও নাবালক শিশুদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল দাউদকান্দি থানা পুলিশ উপজেলার মালিগাঁও, বাটারচর ও সবরীকান্দি এলাকা থেকে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ধরে থানায় নিয়ে আসে। আটকদের মধ্যে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও ৯ বছরের শিশুও ছিল। শিক্ষার্থীদের আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা থানায় এসে ভিড় জমায়। ভুক্তভোগী একাধিক অভিভাবক জানান, তাদের সন্তানরা কিশোর গ্যাংয়ের সাথে যুক্ত নয়। কেউ মসজিদ থেকে নামাজ পড়ে বাড়ি ফিরছিল, আবার কেউ প্রাইভেট পড়া শেষে বাড়ি ফেরার পথে তাদের অন্যায়ভাবে তুলে নিয়ে যায়।
একপর্যায়ে উত্তেজিত অভিভাবক ও এলাকাবাসী থানার ভেতরে ঢুকে হামলা চালায় এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ ঘটনার একটি দৃশ্যচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। পুলিশের প্রাথমিক দাবি ছিল, তারা কিশোর গ্যাংয়ের ১৭ থেকে ২২ জন সদস্যকে আটক করেছে। তবে জনরোষের মুখে শিশুদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
এদিকে থানায় ভাঙচুরের বিষয়ে দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি জানান, থানায় ভাঙচুরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওর সাথে ওসির বক্তব্যের স্পষ্ট বৈপরীত্য দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। অনতিবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে নির্দোষ শিশুদের আটক ও হয়রানির সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোড় দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।