
হাকিকুল ইসলাম খোকন,এমডি নাসির, বাপসনিউজ।।
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের রাজনৈতিক চমক দেখিয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। নির্বাচনে ‘ব্লু টাইড’ বা নীল জোয়ারের প্রভাবে কংগ্রেসের উভয় কক্ষ—প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে ডেমোক্র্যাটরা। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়েছে।খবর বাপসনিউজ ও আইবিএননিউজ ।
নিউইয়র্ক পোস্টের ৪ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ফলাফল রিপাবলিকান শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা। বিশেষ করে ট্রাম্পের সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের পরাজয় রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক অবস্থানকে দুর্বল করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাটরা টেক্সাস ও কানসাসের মতো ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকান-প্রভাবিত রাজ্যেও সিনেট আসন নিজেদের দখলে নিতে সক্ষম হয়েছে। সাতটি রাজ্যে সিনেট আসন পরিবর্তনের পাশাপাশি ওহাইও ও টেক্সাসের গভর্নর নির্বাচনেও ডেমোক্র্যাটরা জয় পেয়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলেছে নির্বাচনী জরিপে দেখা গেছে, মূল্যস্ফীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, অর্থনৈতিক চাপ এবং সরকারের নীতির প্রতি অসন্তোষ ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এক্সিট পোল অনুযায়ী, ৬২ শতাংশ ভোটার মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির কারণে পণ্যের দাম বেড়েছে। অন্যদিকে, ৭১ শতাংশ ভোটার চান, কংগ্রেস প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর আরও কার্যকর নজরদারি করুক। হাকিম জেফ্রিস ও চাক শুমারের সামনে নতুন দায়িত্ব ডেমোক্র্যাটদের এই বিজয়ের ফলে প্রতিনিধি পরিষদে হাকিম জেফ্রিস এবং সিনেটে চাক শুমারের নেতৃত্ব আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্তের ওপর তদন্ত, নজরদারি এবং আইন প্রণয়নে ডেমোক্র্যাটদের প্রভাব বাড়বে।তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতা বহাল থাকায় ডেমোক্র্যাটদের সব প্রস্তাব বাস্তবায়ন সহজ হবে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনীতি এবং প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ রিপাবলিকানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে ডেমোক্র্যাটরা আগামী দুই বছর কংগ্রেসে নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ পেল।