কুমিল্লার দাউদকান্দিতে দুই হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা মাদক মামলায় দুই আসামিকে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন কুমিল্লার আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬) দুপুরবেলা কুমিল্লার বিশেষ দায়রা জজ আদালত ও পারিবারিক আপিল আদালতের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) সাউদ হাসান এ রায় ঘোষণা করেন।দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন চট্টগ্রাম ভুজপুর থানাধীন মোহাম্মদপুর গ্রামের মোঃ হারেজ মিয়ার ছেলে মো. সুমন ও কক্সবাজার টেকনাফ মডেল থানাধীন ঝিমংখালী গুনাপাড়ার মৃত উলা মিয়ার ছেলে মো. শাহজাহান। তারা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।আদালত সূত্রে জানা যায়- ২০১৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বেলা ২টা ৪০ মিনিটে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি পিকআপ ভ্যান থেকে দুই হাজার পিস লালচে রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে পুলিশ। উদ্ধারকৃত ইয়াবার ওজন ছিল ২০০ গ্রাম। এ সময় ইয়াবা বহনে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যান ও স্কচটেপও জব্দ করা হয়।এ ঘটনায় মো. সুমন ও মো. শাহজাহানকে গ্রেপ্তার করে থানায় নেওয়া হয়। এ সময় তাদের জিজ্ঞাসাবাদে মো. আবদুল হামিদ নামে আরও একজনের নাম উঠে আসে। পরে দাউদকান্দি মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০-এর ১৯ (১) এর টেবিল ৯(খ)/২৫/৩৩ ধারার বিধানমতে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ১৫ মার্চ দুই আসামি মো. সুমন ও মো. শাহজাহানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। অপর আসামি আবদুল হামিদের সঠিক নাম ঠিকানা পাওয়া না যাওয়ায় তাকে অভিযোগপত্রে নট সেন্ট আপ দেখানো হয়। পরবর্তীতে মামলাটি বিচারে আসিলে ২০১৯ সালের ১৬ জানুয়ারি আসামিদ্বয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। বিচার চলাকালে আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে কেউ সাক্ষীদের জেরা করেননি। রাষ্ট্রপক্ষে পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত রায় ঘোষণা করেন।রায়ে আদালত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯০-এর ১৯ (১) ধারার টেবিল ৯(খ)/২৫ ধারায় দুই আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে সাত বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে ১৯ (৪) ধারায় প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে সাক্ষ্য-প্রমাণে একই আইনের ৩৩ ধারার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ওই অভিযোগ থেকে দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছেন পলাতক দুই আসামি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলে অথবা আদালতে আত্মসমর্পণ করলে তাদের সাজা কার্যকর হবে। মামলার বিচারাধীন সময়ে হাজতে থাকার কোনো সময় থাকলে তা ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫ক ধারা অনুযায়ী সাজা থেকে বাদ যাবে।এ ছাড়া মামলায় জব্দ করা আলামত রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। জব্দ করা পিকআপ ভ্যানের ক্ষেত্রে পূর্বে দেওয়া জিম্মানামা জিম্মাগ্রহণকারীর অনুকূলে চূড়ান্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।রাষ্ট্র পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন বিজ্ঞ অতিরিক্ত পিপি এডভোকেট এম এ মতিন মোল্লা এবং আসামি পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট মোঃ জসীম উদ্দিন চৌধুরী।
প্রকাশক ও সম্পাদক :
মোঃ সাইফুল ইসলাম ফয়সাল
cumillarkhobor33@gmail.com
Saifulcomilla24@gmail.com
01775726679