স্টাফ রিপোর্টার।।
কুমিল্লা শহরের হৃদয়ে দাঁড়িয়ে আছে আওয়ার লেডী অব ফাতিমা গার্লস’ হাই স্কুল। সময়ের হিসাবে প্রতিষ্ঠানটির বয়স এখন ৭৬ বছর। ১৯৫০ সালে যখন মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ আজকের মতো বিস্তৃত ছিল না, তখন কুমিল্লায় নারীশিক্ষার প্রসারে এই প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে।১৯৫০ সালের ৮ জানুয়ারি, সিস্টার মেরি লিও ক্যাভেলের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটির সূচনা হয়। শুরুটা ছিল একেবারেই ছোট পরিসরে। স্কুলের নিজস্ব ইতিহাসে বলা হয়েছে, প্রথমদিকে শিক্ষার্থী ছিল মাত্র তিনজন ছেলে ও একজন মেয়ে, আর শিক্ষক ছিলেন দুজন। শ্রেণি কার্যক্রমও শুরু হয়েছিল ভবনের বারান্দায়।শিক্ষার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়তে থাকায় দূর-দূরান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা আসতে শুরু করে। তাদের থাকার সুবিধার জন্য ১৯৫৫ সালে হোস্টেল চালু করা হয়। পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিসর ও শিক্ষাকার্যক্রমও ধীরে ধীরে বিস্তৃত হয়।প্রতিষ্ঠার ১১ বছর পর ১৯৬১ সালে স্কুলটির নাম পরিবর্তন করে ‘Our Lady of Fatima Cambridge School’ রাখা হয়। এরপর ১৯৭০ সালে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সার্টিফিকেট পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি পাওয়ার কথা প্রতিষ্ঠানের ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে।কুমিল্লার ক্যাথলিক মিশনের ইতিহাসের সঙ্গেও প্রতিষ্ঠানটির শুরুর সময়টি ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। চট্টগ্রাম বিভাগের সরকারি তথ্যেও বলা হয়েছে, সিস্টার মেরী লিও ক্যাভেলের উদ্যোগে ১৯৫০ সালে কুমিল্লায় ক্যাথলিক মিশনের কাজ শুরু হয়।আজ প্রতিষ্ঠানটি কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধিভুক্ত মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এর EIIN ১০৫৭৭৩ এবং বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় পাঠদান করা হয়।একটি প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস শুধু তার ভবন, শ্রেণিকক্ষ কিংবা পরীক্ষার ফলাফলের ইতিহাস নয়। তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি শহরের সামাজিক পরিবর্তনের গল্প।আওয়ার লেডী অব ফাতিমা সেই অর্থে কুমিল্লার নারীশিক্ষার পরিবর্তনযাত্রারও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। ১৯৫০ সালের ছোট্ট উদ্যোগ থেকে আজকের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হওয়ার এই দীর্ঘ পথ কুমিল্লার শিক্ষা ও সামাজিক ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।
প্রকাশক ও সম্পাদক :
মোঃ সাইফুল ইসলাম ফয়সাল
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Try this — usdt dice for rolling the dice