আহসানুজ্জামান সোহেল, বিশেষ প্রতিনিধি।।
ফেনী কেয়ার হাসপাতাল-এর মেডিসিন ও বাত-ব্যথা বিশেষজ্ঞ ডা. এম. এ. কাদের এর একাধিক দেশি-বিদেশি চিকিৎসা ডিগ্রির বৈধতা ও সত্যতা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ।ফেনী কেয়ার হাসপাতালের ডা. এম. এ. কাদের তার নামের পাশে MBBS, C-Ultra (India), FRSH (London), M-A IUM (USA)-এর মতো উচ্চতর ডিগ্রি ব্যবহার করে রোগী দেখছেন। সাইনবোর্ড ও বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত ডিগ্রিসমূহ দেশের একমাত্র চিকিৎসা নিবন্ধনকারী কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (BMDC)-এর বিধিমালা অনুযায়ী স্বীকৃত নয়।
সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যম ও স্থানীয় অনুসন্ধানে তার এই "বিশেষজ্ঞ" ডিগ্রিগুলোর সত্যতা নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে । বিএমডিসি (BMDC) আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশে কোনো রেজিস্টার্ড চিকিৎসক এমবিবিএস বা উচ্চতর ডিগ্রিধারী না হয়ে বা বিএমডিসি কর্তৃক সুনির্দিষ্ট অনুমোদন না পেয়ে নামের পাশে এই ধরণের কোনো বিদেশী ডিগ্রির পরিচয় দিয়ে "বিশেষজ্ঞ" হিসেবে নিজেকে প্রচার করাটা আইনত বৈধ নয়। নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, বিএমডিসি-র মূলধারার নিবন্ধিত ডিগ্রি না থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসার কিছু কোর্স সম্পন্ন করে সুকৌশলে নামের আগে "ডাক্তার" এবং মূলধারার "MBBS" পদের অপব্যবহার করা হচ্ছে, যা রোগীদের বিভ্রান্ত করছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের চেম্বার শিডিউলে ডা. এম. এ. কাদেরকে "মেডিসিন ও বাত ব্যথা রোগের বিশেষ অভিজ্ঞ" হিসেবে উল্লেখ করে দীর্ঘদিন ধরে রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০ শে সেপ্টেম্বর মরিয়ম নামে এক প্রসূতির সিজার অপারেশন করেন ডাক্তার কাদের । আর এভাবেই প্রতারণা করে হাতিয়ে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। একাধিক সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী নারী রোগীদের চিকিৎসা করতে গিয়ে অনেকের সাথে তার আপত্তিকর সখ্যতা চলমান রয়েছে বলে এমন অভিযোগ রয়েছে যা সরেজমিনে খতিয়ে দেখার চেষ্টা করছে গণমাধ্যম কর্মীরা।বিএমডিসি (BMDC) নীতিমালা অনুযায়ী এই বিদেশী ডিগ্রিগুলো বাংলাদেশে বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রচার করার নিয়ম না থাকলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের প্রচারণায় C-Ultra (India), FRSH (London), M-A IUM (USA) ডিগ্রিগুলো প্রদর্শন করা অব্যাহত রেখেছে। স্থানীয় পর্যায়ে বিতর্ক ও গণমাধ্যমের নজরদারির মুখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের কিছু সাম্প্রতিক পোস্টে তাকে সরাসরি "বিশেষজ্ঞ" না লিখে "জেনারেল প্র্যাকটিশনার, সনোলজিস্ট ও এন্ডোস্কপিস্ট" হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছে, যদিও আগের বিতর্কিত বিদেশী ডিগ্রিগুলো আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শুধুমাত্র এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করলেই একজন চিকিৎসক নিজেকে "সার্জারি বিশেষজ্ঞ" হিসেবে পরিচয় দিতে পারেন না। সার্জারি বিশেষজ্ঞ বা সার্জন হতে হলে বিএমডিসি (BMDC) স্বীকৃত নির্দিষ্ট কিছু উচ্চতর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করতে হয়। বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (BCPS) থেকে সার্জারিতে এফসিপিএস ডিগ্রি সম্পন্ন করতে হয়। কিন্তু উল্লেখিত বিষয়ে ফেনীর সিভিল সার্জন বলেন ভিন্ন কথা । তার মতে এমবিবিএস ডিগ্রীধারী কোন ডাক্তার যদি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকেন তাহলে সে সার্জারী করতে পারেন।এবিষয়ে ফেনী কেয়ার হসপিটালের চেয়ারম্যান এবং অভিযুক্ত ডাক্তার এম এ কাদের এর কাছে এমবিবিএস ডিগ্রি নিয়ে সার্জারী করা যায় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ত্রিশ বছর যাবৎ তিনি এ পেশায় কাজ করে আসছেন বিধায় সার্জারী বিষয়ে তাহার অভিজ্ঞতা আছে তাই সিজারিয়ান এর মতো জটিল সার্জারী তিনি করতে পারেন।উল্লেখিত বিষয়ে ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. মো আরিফুজ্জামান বলেন এমবিবিএস ডিগ্রিধারী কোন ডাক্তার যদি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চতর ট্রেনিং সম্পন্ন করে থাকেন তাহলে জরুরী অবস্থায় সে সিজারিয়ান অপারেশন বা এই সম্পর্কিত সার্জারী করতে কোন বাধা নেই।চট্টগ্রামের সাবেক সিভিল সার্জন ও বিএম এর সাবেক সভাপতি ডাক্তার আজিজুর রহমান সিদ্দিকি বলেন, এমবিবিএস ডিগ্রী ধারী ডাক্তারগণ সাধারনত অজ্ঞান বিহীন অপারেশন যেমন ছোট খাটো ফোড়া ও সুন্নতের খাৎনা এমন সার্জারী করতে পারেন। তবে বড় ধরনের কোন সার্জারী করতে হলে তাকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ডিপ্লমা বা উচ্চতর ডিগ্রী থাকা আবশ্যক।বেসরকারি ক্লিনিকগুলো বাণিজ্যিক স্বার্থে এই ধরণের সাধারণ চিকিৎসকদের নামের পাশে চটকদার ডিগ্রি ব্যবহার করে রোগীদের আকৃষ্ট করতে সহায়তা করে থাকে, ফেনী কেয়ার হাসপাতালের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম দেখা যায়নি।
প্রকাশক ও সম্পাদক :
মোঃ সাইফুল ইসলাম ফয়সাল
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Try this — usdt dice for rolling the dice