স্টাফ রিপোর্টার।।
ব্রিটিশ আমল থেকে বিচারব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কুমিল্লা আদালত আজও বহন করে চলেছে দীর্ঘ ইতিহাস ও ঐতিহ্য। ঐতিহাসিক ত্রিপুরা জেলার বিচারব্যবস্থার ধারাবাহিকতায় গড়ে ওঠা এ আদালতের সঙ্গে জড়িয়ে আছে উপমহাদেশের আইন ও বিচারাঙ্গনের বহু গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।সরকারি বিচার বিভাগের ইতিহাস অনুযায়ী, ব্রিটিশ শাসনের শুরু থেকেই তৎকালীন ত্রিপুরায় বিচার ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হতো। ১৮৩১ সালে দেওয়ানি মামলার বিচারিক ক্ষমতা জজদের ওপর ন্যস্ত করা হয়। আর ১৮৮৫ সালে কুমিল্লা জেলা জজের বর্তমান পদ সৃষ্টি হয়। তখন ত্রিপুরা জেলার আওতায় বর্তমান কুমিল্লার পাশাপাশি বিভিন্ন সময়ে চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলও ছিল।কুমিল্লার বিচারাঙ্গনের ইতিহাস শুধু আদালতের কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ নয়। ব্রিটিশ আমলে রায় বাহাদুর মোহনী মোহন বর্ধন ত্রিপুরা আদালতে বাংলা ভাষায় বিচারপ্রক্রিয়া পরিচালনার অনুমতি আদায়ে ভূমিকা রাখেন। পরে কুমিল্লা বারের আইনজীবী ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের গণপরিষদে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করেন।কুমিল্লা বিচার বিভাগ ও আইনজীবী সমিতি থেকে বহু বিচারক, আইনজীবী, আইনপ্রণেতা ও জাতীয় পর্যায়ের আইনজ্ঞ উঠে এসেছেন। ফলে কুমিল্লা আদালত শুধু বিচার কার্যক্রমের স্থান নয়, এ অঞ্চলের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ভাষার ইতিহাসেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।বর্তমানে কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অধীনে একাধিক আদালত কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনের পাশাপাশি বিভিন্ন আদালত ভবনেও বিচারিক কার্যক্রম চলছে।প্রশ্ন এখন ঐতিহ্য সংরক্ষণ নিয়ে। শত বছরের বিচার ইতিহাসের সাক্ষী কুমিল্লা আদালত এলাকার পুরোনো স্থাপনা, নথি ও ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্নগুলো কতটা সংরক্ষিত হচ্ছে, আর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এ ইতিহাস কীভাবে তুলে ধরা হবে, সেটিও এখন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়।
প্রকাশক ও সম্পাদক :
মোঃ সাইফুল ইসলাম ফয়সাল
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Try this — usdt dice for rolling the dice