স্টাফ রিপোর্টার।।
কুমিল্লার রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সময়ে বড় ধরনের সাংগঠনিক পরিবর্তনের আভাস দেখা যাচ্ছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে উল্লেখযোগ্য রূপান্তর ঘটেছে।দলভিত্তিক বর্তমান পরিস্থিতি:বিএনপি (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল): কুমিল্লা অঞ্চলে তাদের শক্ত অবস্থান পুনরায় নিশ্চিত করেছে। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার ১১টি আসনের মধ্যে ৮টিতেই জয়লাভ করেছে দলটি। ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন (কুমিল্লা-১), মো. মনিরুল হক চৌধুরী (কুমিল্লা-৬) এবং অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের বিজয়ের পর তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম ও স্থানীয় প্রশাসনে আধিপত্য বেড়েছে।বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোট: কুমিল্লায় জামায়াত শক্তিশালী বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা-১১) আসনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বিজয়ী হন। এছাড়া দেবিদ্বার (কুমিল্লা-৪) আসনে জামায়াত সমর্থিত জোটের প্রার্থী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বড় ব্যবধানে জয় লাভ করেন।বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ: ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে নিষিদ্ধ ও ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ এবং তাদের অঙ্গসংগঠনের (যেমন ছাত্রলীগ) প্রকাশ্যে রাজপথে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রায় নেই বললেই চলে। তবে বিভিন্ন স্থানীয় বিষয়কে কেন্দ্র করে অনিয়মিত কিছু গোপন তৎপরতার খবর পাওয়া যায়।মূল রাজনৈতিক বিষয়াবলি: স্থানীয় ক্ষমতার প্রভাব ও দ্বন্দ্ব: নির্বাচন পরবর্তী সময়ে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রাধান্য রক্ষা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে নিয়ন্ত্রণ রাখা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতামূলক আবহ তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক ইস্যু: সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর গ্যাং দমন, সীমান্ত বা মহাসড়ক কেন্দ্রিক নিরাপত্তা ও চাঁদাবাজিবিরোধী পদক্ষেপে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর চাপ লক্ষ করা যাচ্ছে।সামগ্রিকভাবে, কুমিল্লার রাজনীতি বর্তমানে মূলত বিএনপি ও ১১ দলীয় জোট/জামায়াতের রাজনৈতিক বলয় এবং তাদের অভ্যন্তরীণ স্থানীয় দ্বন্দ্ব-প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক :
মোঃ সাইফুল ইসলাম ফয়সাল
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত