মোঃ এমদাদ উল্যাহ,চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি কুমিল্লা।।
১২ সেপ্টেম্বর শনিবার। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়। সাংবাদিক হিসেবে পূর্ব নির্ধারিত শ্রীপুরের একটি অনুষ্ঠানে অতিথির সাথে যাওয়ার জন্য ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিয়াবাজার এলাকার একটি হাইওয়ে হোটেলে উপস্থিত হলাম। সঙ্গে ছিলেন আরও কয়েকজন। হোটেলের নিচে মোটর সাইকেল রেখে উপরে উঠে দেখি, পরিচিত একজন পুলিশ কর্মকর্তা বসে গল্প করছেন। তাঁর সাথে ছিলেন পিবিআইয়ের এক কর্মকর্তা, তাঁর ছেলে ও পরিচিত আরও একজন। পরিচিতি মনে হওয়ায় আমার নাম বলায় তিনি চিনতে পারলেন। বর্তমানে পুলিশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। সামান্য কিছুক্ষণের কথায় তিনি বললেন, কুমিল্লা ও চৌদ্দগ্রামের সাংবাদিকদের যন্ত্রণায় তিনি অতিষ্ঠ। অধিকাংশ মাসের প্রথম ও শেষের দিকে এসে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকে। পরবর্তীতে অফিস চালাতে পারছে না বলে ‘টাকা’ চায়। ওনার ভাষ্যমতে, কয়েকদিন আগে একজনকে টাকা না দেয়া ও তদবিরে সিএনজি অটোরিকশা না ছাড়ায় নিউজ করে দেয়। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিউজটি সত্য না মিথ্যা যাচাই করে না। হুট করেই নিম্নপদস্থ কর্মকর্তাদের ব্যবস্থা নেয়। তাৎক্ষণিক আমার ‘চাঁদা বিরোধী’ কিছু কথা শুনে চমকে যান। ওনার সাথে খোশগল্প করা অন্য সবাই আমার কথা শুনে ‘ভালো’ লেগেছে বলেই মন্তব্য করেছে। কিছুক্ষণ পর ওনারা সবাই চলে যায়। আমি নির্ধারিত অনুষ্ঠানের অতিথিদের সাথে নাস্তা শেষে শ্রীপুরে চলে যাই। সেখানে খেলার মাঠে পৌঁছাতেই আমার সাথে থাকা একজনের নগদ নাম্বারে একটি ‘ম্যাসেজ’ আসলো। হোয়াটস্ অ্যাপে ম্যাসেজে ওই পুলিশ কর্মকর্তা লিখলেন ‘লাস্ট নাম্বার ৬৪৫’।
আপসোস হয়, ওনাদের সাথে কথা বলার মাত্র ১ ঘন্টার মধ্যেই ওই কর্মকর্তা টাকার ম্যাসেজ দিলেন! কি অপরাধ ডাকতে তিনি টাকা পাঠালেন?অপরদিকে আরেকটি জায়গায় ক্যান্টিনে প্রতিদিন দুপুর বেলায় সাংবাদিক নামধারী ২-৩ জন খাবার খান। ডিম ভাজি না দিলে বাবুর্চির সাথে ক্ষেপে যায়।কি কারণে মাসের শেষ বা প্রথমে সাংবাদিক নামধারীরা টাকা চায়? পুলিশ যদি সাংবাদিক নামধারী চাঁদাবাজদের চাঁদা না দেয়, তাহলে কি হবে?আমার কথা হচ্ছে, কোন সাংবাদিক যদি তথ্য চায়, তথ্য দিবেন,কিন্তু সাংবাদিক যদি ২০ মিনিটের পরিবর্তে ১-২ ঘন্টা টাকার জন্য বসে থাকে, আপনি কেন টাকা দিবেন?পুলিশের কোন নিয়মে এটা পড়ে? অবশ্যই, না।মূল কথা, পুলিশই সাংবাদিক নামধারী চাঁদাবাজদের ‘ভিক্ষুক’ বানাচ্ছে। তাদেরকে কর্মহীন করছে। এভাবে তারা কোন না কোন ব্যক্তির অপরাধ দেখলে টাকা আদায়ের জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েন। এরমধ্যে কয়েকজন বলেন, ‘ওনারা অপরাধ করলে, আমাদের কেন টাকা দিবে না’। আচ্ছা, অপরাধীর থেকে টাকা আদায় করে অপরাধের সংবাদ না করাতো আরও বড় অপরাধ! এটা চাঁদাবাজরা বুঁঝতেই চায় না।যদি চাঁদাবাজদের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা টাকা না দেয়, তাহলে তারা উদ্যোক্তা হবে, চাকরিজীবি হবে বা অন্য কোন পেশায় জড়িত হবে। জীবন-সংগ্রাম ভালোভাবে চলবে। কতিপয় অসাধু কর্মকর্তারাই চায় না, চাঁদাবাজরা ভালো হোক।আল্লাহ, সকলকে সঠিক বুঝ দান করুন, আমিন।
প্রকাশক ও সম্পাদক :
মোঃ সাইফুল ইসলাম ফয়সাল
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত