নিজস্ব সংবাদদাতা।।
ছয় ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের আদেশ........দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক রেলমন্ত্রী ও কুমিল্লা-১১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. মুজিবুল হকের কুমিল্লায় থাকা ২৮৪ শতক জমি ক্রোক, দুটি টয়োটা কোম্পানির জিপ জব্দ এবং তাঁর নামে থাকা ছয়টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। দুদকের সহকারী পরিচালক পাপন কুমার সাহা আদালতে এসব সম্পদ ক্রোক, গাড়ি জব্দ এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার আবেদন করেন।কুমিল্লায় ২৮৪ শতক জমি.......আদালতের আদেশের আওতায় থাকা জমিগুলো কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম থানা এলাকায় অবস্থিত। বিভিন্ন দাগ নম্বরে থাকা এসব জমির মোট পরিমাণ ২৮৪ শতক। গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে এগুলোকে ১৮টি জমি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।এ ছাড়া মুজিবুল হকের মালিকানাধীন দুটি টয়োটা কোম্পানির জিপ জব্দের আদেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর নামে থাকা ছয়টি ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগ...দুদকের আবেদনে বলা হয়েছে, মুজিবুল হক রেলপথ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরস্পর যোগসাজশ ও অসৎ উদ্দেশ্যে ৭ কোটি ৩৯ লাখ ৪১ হাজার ৩৫১ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে নিজের ভোগদখলে রেখেছেন।এ অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন এবং তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে।সম্পদ হস্তান্তরের আশঙ্কা......দুদকের আবেদনে আরও বলা হয়, তদন্তকালে রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে আসামির নামে থাকা এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার চেষ্টা করার তথ্য পাওয়া গেছে।মামলা নিষ্পত্তির আগে এসব সম্পত্তি হস্তান্তর বা স্থানান্তর হয়ে গেলে সরকারের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সম্পদ সুরক্ষিত রাখতে আদালতের কাছে জমি ক্রোক, গাড়ি জব্দ এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আবেদন জানায় দুদক। আদালত শুনানি শেষে আবেদন মঞ্জুর করেন।আগেই দুদকের মামলা.........এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি সাবেক রেলমন্ত্রী মো. মুজিবুল হক ও তাঁর স্ত্রী হানুফা আক্তার রিক্তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক মামলা করে দুদক। ওই মামলায় মুজিবুল হকের বিরুদ্ধে ৭ কোটি ৩৯ লাখ ৪১ হাজার ৩৫১ টাকা এবং তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে ৩ কোটি ২৮ লাখ ৪৩ হাজার ৯৭৩ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়।তবে আদালতের বর্তমান আদেশকে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার রায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চলাকালে সংশ্লিষ্ট সম্পদ হস্তান্তর বা বেহাত ঠেকাতে নেওয়া আইনগত ব্যবস্থা। অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক :
মোঃ সাইফুল ইসলাম ফয়সাল
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত