স্টাফ রিপোর্টার।।
গত বছরের ৫ মার্চ রাতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার শিকার হয় শিশু আছিয়া। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মাগুরায় আট বছরের শিশু আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। আসামির আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) শুনানি নিয়ে আজ সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার মন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। গত ২৪ আগস্ট হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়। এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য গত ২৫ আগস্ট দিন ধার্য ছিল। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তা পিছিয়ে ৩১ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়। আদালতে হিটু শেখের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন হাফিজুর রহমান খান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক। গত বছরের ৫ মার্চ রাতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার শিকার হয় শিশু আছিয়া। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে তাদের সবাইকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ মামলায় ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠন এবং ২৭ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে ২৯ জনের সাক্ষ্য নেয়ার পর ৭ মে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। ১৩ মে যুক্তিতর্ক শেষে ১৭ মে রায় ঘোষণা করেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান। রায়ে শিশু আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া মামলার অপর তিন আসামি আছিয়ার বোনের স্বামী সজীব শেখ, তার ভাই রাতুল শেখ ও মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেন আদালত। এদিকে বিচারিক আদালতের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে পাঠানো হয়। হিটু শেখ দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেন। রায় ঘোষণার পর আছিয়ার মা ও মামলার বাদী আয়েশা আক্তার জানান, হাইকোর্টে হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ডের যে রায় দিলেন তা যেন দ্রুত কার্যকর হয়। এ রায়ের মধ্য দিয়ে তিনি তার মেয়ের হত্যার ন্যায়বিচার পেয়েছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক :
মোঃ সাইফুল ইসলাম ফয়সাল
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত