বাহাদুর চৌধুরী।।
আসসালামু আলাইকুম।
আজ কিছু কথা লিখতে হচ্ছে বিবেকে তাড়নায়। হয়তো কথাগুলো অনেকের ভালো লাগবে না, হয়তো কেউ কেউ কষ্টও পাবেন। কিন্তু সত্য কথা কখনো কখনো তেতো হয়—আর সেই তেতো কথাটাই বলা প্রয়োজন।
আমি নবীন সাংবাদিকদের নিয়ে কাজ করেছি, তাদের এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছি এবং এখনও চাই তারা একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলুক। কারণ আমি বিশ্বাস করি, আজকের নবীনরাই আগামী দিনের সাংবাদিকতার নেতৃত্ব দেবে।কিন্তু দুঃখজনকভাবে, আমাদেরই কিছু প্রবীণ গণমাধ্যমকর্মীর আচরণ দেখে প্রশ্ন জাগে—আমরা কি সত্যিই সাংবাদিকতার সিনিয়র, নাকি শুধু বয়স ও পদমর্যাদার অহংকারে সিনিয়র?কোনো অনুষ্ঠান বা ফাংশনে নবীন সাংবাদিক তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তাকে বাঁকা চোখে দেখা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা, কথা শুনিয়ে দেওয়া কিংবা এমন আচরণ করা যেন সে সাংবাদিকই নয়—এগুলো কোনোভাবেই একজন সিনিয়র সাংবাদিকের পরিচয় হতে পারে না।আর অনলাইন মিডিয়া বা ছোট পত্রিকার প্রতিনিধি হলে তো অনেকের আচরণ আরও ভয়ংকরভাবে বদলে যায়!প্রশ্ন করতে চাই—পত্রিকার নাম বড় হলেই সাংবাদিক বড় হয়? আর পত্রিকা ছোট হলেই সাংবাদিক ছোট হয়ে যায়?
একজন সাংবাদিকের পরিচয় তার প্রতিষ্ঠানের আকারে নয়; তার পরিচয় তার সততা, সাহস, দায়িত্ববোধ, পেশাদারিত্ব এবং মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতায়।
যে নবীনটি আজ একটি মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করছে, তাকে আপনি অবজ্ঞা করছেন—আপনি কি জানেন, সেই তরুণই হয়তো আগামী দিনে আপনার চেয়েও বড় দায়িত্ব পালন করবে?আর যদি সে ভুল করে, তাকে অপমান করার অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে?ভুল ধরিয়ে দিন, শিক্ষা দিন, পথ দেখান—কিন্তু অপমান করবেন না।কারণ মনে রাখবেন, আপনিও একদিন নবীন ছিলেন।আপনার প্রথম সংবাদ, প্রথম ক্যামেরা, প্রথম প্রতিবেদন, প্রথম প্রেস ব্রিফিং—সবকিছুর পেছনেও কোনো না কোনো মানুষের সহযোগিতা ছিল। সেই সহযোগিতার ঋণ কি আমরা ভুলে যাব?সিনিয়র সাংবাদিক হওয়ার সবচেয়ে বড় যোগ্যতা হলো—নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে নতুনদের তৈরি করা।নবীনদের ভয় দেখিয়ে, ছোট করে, অনুষ্ঠানে ঢুকতে বাধা দিয়ে, তথ্য দিতে অনীহা দেখিয়ে কিংবা তাদের পরিচয় নিয়ে বিদ্রূপ করে কেউ কখনো বড় সাংবাদিক হতে পারেন না।বরং এতে নিজের পেশার মর্যাদাই ক্ষুণ্ন হয়।আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই—নবীন সাংবাদিকরা কারও দয়া নিয়ে সাংবাদিকতা করতে আসেনি। সাংবাদিকতা করার অধিকার তাদেরও আছে।
তারা প্রশ্ন করবে।তথ্য চাইবে।সংবাদ সংগ্রহ করবে।ভুল হলে শিখবে।অভিজ্ঞতা অর্জন করবে।এবং একদিন তারাই এই পেশাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে।তাই যারা নিজেদের সিনিয়র মনে করেন, তাদের প্রতি আমার বিনীত কিন্তু কঠোর আহ্বান—অহংকারটা একটু কমান।তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিটা সরান।নবীনদের পাশে দাঁড়ান।তাদের হাতে হাত রাখুন।কারণ আপনার চেয়ার চিরস্থায়ী নয়, কিন্তু আপনার আচরণ মানুষের মনে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকবে।আজ আপনি একজন নবীনকে অপমান করছেন, কাল হয়তো সেই নবীনই আপনার কোনো অসমাপ্ত কাজের পাশে দাঁড়াবে।আর যদি আমরা নবীনদের জন্য নিরাপদ, সম্মানজনক ও সুন্দর কর্মপরিবেশ তৈরি করতে না পারি, তাহলে আগামী প্রজন্মের কাছে আমাদের সাংবাদিকতার ইতিহাস নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।আমি নবীন সাংবাদিকদের জন্য কাজ করে যেতে চাই।তাদের স্বপ্ন ভাঙতে নয়—স্বপ্ন পূরণের পথ তৈরি করতে চাই।আর সেই পথের সবচেয়ে বড় বাধা যদি আমাদের নিজেদের অহংকার হয়, তাহলে সেই অহংকারের বিরুদ্ধে কথা বলতেও আমি পিছপা হব না।কারণ আমি বিশ্বাস করি—একজন নবীন সাংবাদিককে ছোট করা মানে শুধু একজন মানুষকে ছোট করা নয়; তার সঙ্গে সঙ্গে সাংবাদিকতার আগামী দিনকেও ছোট করা।
তাই আসুন—নবীনকে তুচ্ছ নয়, তৈরি করি।
অপমান নয়, সম্মান দিই।দূরে ঠেলে নয়, পাশে দাঁড়াই।
কারণ আজকের নবীনই আগামী দিনের সাংবাদিকতার মুখ।
(((দৈনিক দক্ষিণের অপরাধ সংবাদ
নবীনদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখতে চান)))
#নবীনসাংবাদিক
#সাংবাদিকতারভবিষ্যৎ
#গণমাধ্যম
#সাংবাদিকদেরঅধিকার
#সিনিয়রদেরদায়িত্ব
#অহংকারনয়_সহযোগিতাচাই
#নবীনদেরপাশেদাঁড়ান
প্রকাশক ও সম্পাদক :
মোঃ সাইফুল ইসলাম ফয়সাল
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত