নিজস্ব প্রতিবেদক।।
কুমিল্লা নগরীর একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের মোবাইল ফোন হ্যাক করে ব্যাংক হিসাব থেকে প্রায় ৫ লাখ ৭৭ হাজার টাকা আত্মসাতের ঘটনায় তদন্ত করতে গিয়ে একটি সংঘবদ্ধ সাইবার প্রতারক চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় যশোর থেকে চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হলেও আত্মসাৎ হওয়া অর্থ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।বৃহস্পতিবার (৬ জুলাই) বিকেলে কুমিল্লায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পিবিআই কুমিল্লার পরিদর্শক বিপুল চন্দ্র দেবনাথ। পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ১০ মার্চ কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের প্রধান শিক্ষক মো. হানিফ মজুমদারের মোবাইল ফোনে সিটি ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট যাচাইয়ের নামে একটি ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হয়। ওই বার্তার নির্দেশনা অনুসরণ করে সিটি টাচ অ্যাপ ব্যবহার করার পরপরই তার মোবাইল ফোন হ্যাক হয়ে অকার্যকর হয়ে যায়। পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, তার সিটি ব্যাংকের হিসাব থেকে দুটি পৃথক ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে। একই সময়ে জনতা ব্যাংকের হিসাব থেকেও বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে আরও ৪৬ হাজার ৭৮৯ টাকা তুলে নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রতারকরা ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৭৮৯ টাকা আত্মসাৎ করে। এ ঘটনায় ১৬ মার্চ কুমিল্লা কোতোয়ালী মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেন ভুক্তভোগী শিক্ষক। পরে মামলার তদন্তভার পায় পিবিআই কুমিল্লা। তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারক চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে পিবিআই। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ জুন পিবিআই কুমিল্লা ও যশোর কোতোয়ালী থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে যশোর সদর উপজেলার লেবুতলা এলাকা থেকে চক্রের অন্যতম সদস্য ফারুক হোসেন (৫৫)কে গ্রেপ্তার করা হয়। পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তারের পর ফারুক হোসেন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি চক্রের অন্যান্য সদস্যদের পরিচয় এবং প্রতারণার কৌশল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। এসব তথ্যের ভিত্তিতে চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।পিবিআই কুমিল্লার পুলিশ সুপার মতিয়ার রহমান বলেন, ভুয়া ক্ষুদে বার্তা, সন্দেহজনক লিংক কিংবা ওটিপির মাধ্যমে ব্যাংক হিসাব থেকে অর্থ আত্মসাতের পেছনে একটি সংঘবদ্ধ সাইবার প্রতারক চক্র সক্রিয় রয়েছে। কুমিল্লার এই মামলার তদন্তে চক্রটির কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে এবং জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক :
মোঃ সাইফুল ইসলাম ফয়সাল
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত