স্টাফ রিপোর্টার।।
কুমিল্লা কোতোয়ালী থানাধীন ছত্রখিল পুলিশ ফাঁড়িকে ঘিরে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসোহারা গ্রহণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শরীফসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন পুলিশ সদস্যের নাম উঠে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগের নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একাধিক সূত্রের দাবি, এলাকার কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ সংগ্রহ করা হতো। অভিযোগ অনুযায়ী, মতিনগরের কবিরের কাছ থেকে প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা, ধুতিয়া দিঘীরপাড়ের মিঠুর কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা, জামবাড়ীর জাভেদের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা, মতিনগরের তোফায়েলের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা, বৌদ্ধভূমির সুমনের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা এবং জামবাড়ীর শাহিনের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব অর্থ কনস্টেবল সাদ্দামের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়।প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য, একাধিক সূত্রের বক্তব্য এবং সংরক্ষিত কিছু তথ্য-উপাত্তে অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এছাড়া পুলিশ সূত্র থেকেও অভিযোগ-সংশ্লিষ্ট কিছু তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। তবে এসব তথ্য এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই বা কোনো সরকারি তদন্তে নিশ্চিত হয়নি।প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ-সংক্রান্ত কিছু তথ্য ও নথি সংরক্ষিত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যদি কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, তাহলে আইনানুগ প্রক্রিয়ায় সেসব তথ্য-উপাত্ত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বা তদন্তকারী সংস্থার কাছে উপস্থাপন করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছত্রখিল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শরীফ মুঠোফোনে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, অভিযোগগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়নি। এদিকে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে প্রতিবেদক কুমিল্লার পুলিশ সুপার, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এবং বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপির কাছে লিখিতভাবে বিষয়টি তদন্তের আবেদন জানিয়েছেন। পাশাপাশি কুমিল্লার সুশীল সমাজও অভিযোগের সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। আর অভিযোগ অসত্য প্রমাণিত হলে সেটিও আনুষ্ঠানিকভাবে জনসম্মুখে প্রকাশ করা প্রয়োজন, যাতে জনমনে কোনো বিভ্রান্তি না থাকে এবং পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা অক্ষুণ্ন থাকে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের ভাষ্য, আইন সবার জন্য সমান।তাই অভিযোগের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যে-ই হোন না কেন, একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি।তাদের দাবি, এতে যেমন দোষী ব্যক্তি আইনের আওতায় আসবেন, তেমনি অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সুনামও প্রতিষ্ঠিত হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক :
মোঃ সাইফুল ইসলাম ফয়সাল
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত