নিজস্ব প্রতিবেদক।।
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাড়ছে ডাকাতি ও ছিনতাই আতঙ্ক। বিশেষ করে প্রবাসী ও দূরপাল্লার যাত্রীদের টার্গেট করে সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্রের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ যাত্রী ও পরিবহনদের। রাতের বেলায় ছোট যানবাহন থামিয়ে অস্ত্রের মুখে সর্বস্ব লুটে নেওয়ার অভিযোগ এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি দাউদকান্দি থেকে টার্গেট করে দেবিদ্বার-চান্দিনা সড়কের নবীয়াবাদ এলাকায় সৌদি প্রবাসী আশিকুর রহমানের গাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। গত বুধবার গভীর রাতে সংঘটিত ওই ঘটনায় অস্ত্রের মুখে নগদ টাকা, সৌদি রিয়াল, ডলারসহ প্রায় ২৮ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও গত তিন থেকে চার মাস ধরে মহাসড়কের চান্দিনা উপজেলার কুটুম্বপুর থেকে দাউদকান্দি উপজেলার রায়পুর পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার এলাকায় সন্ধ্যার পর থেকেই চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা বেড়েছে।যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার লক্ষ্য করে লোহার রড নিক্ষেপ করে গাড়ি থামিয়ে ডাকাতির কৌশলও ব্যবহার করছে সংঘবদ্ধ চক্র। পরিবহন চালকেরা জানান, চলন্ত গাড়িতে হঠাৎ রড ছুড়ে মারলে চালকেরা যান্ত্রিক ত্রুটি মনে করে গাড়ি থামান।এরপরই সশস্ত্র ডাকাতদল হামলা চালিয়ে যাত্রীদের নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, মোবাইল ফোন ও মালামাল লুটে নেয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পেট্রোলপাম্প বা সড়কসংলগ্ন হোটেলে যাত্রাবিরতির সময়ও যাত্রী ও চালকেরা ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ছেন।ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, গত ১ মার্চ মালয়েশিয়া প্রবাসী বেলাল হোসেন দীর্ঘ তিন বছর পর দেশে ফিরে ঢাকা থেকে ভাড়া করা প্রাইভেটকারে ফেনীর দাগনভূঞায় নিজ বাড়িতে যাচ্ছিলেন। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের ফালগুনকরা এলাকায় পৌঁছালে একটি পিকআপ ভ্যান তাঁদের গাড়িকে ধাক্কা দেয়। পরে সাত থেকে আটজনের একটি সশস্ত্র দল গাড়ি ঘিরে ফেলে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, বিদেশি মুদ্রা ও মালামাল লুট করে নেয়।বেলাল হোসেন বলেন, ডাকাতরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে গাড়ি ভাঙচুর করে। পরে আমাদের জিম্মি করে সব কিছু নিয়ে যায়। এমনকি পাসপোর্টও নিয়ে নিয়েছিল। পরে অনেক অনুরোধের পর সেটি ফেরত দেয়। একই ধরনের ঘটনায় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কুয়েতপ্রবাসী নাইমুল ইসলামও ডাকাতির শিকার হন। তিনি জানান, চৌদ্দগ্রাম থানার অদূরেই তাঁর বহনকারী গাড়ির গতিরোধ করে অস্ত্রের মুখে সর্বস্ব লুট করা হয়। দীর্ঘ ১৯ মাস পর দেশে ফিরে এমন অভিজ্ঞতায় হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।মাইক্রোবাস চালক সোহেল মিয়া বলেন, প্রতি রাতেই মহাসড়কের বিভিন্ন স্পটে ডাকাতচক্র ওঁৎ পেতে থাকে। রড মেরে বা গাড়ি ধাক্কা দিয়ে যানবাহন থামিয়ে যাত্রীদের সব কিছু নিয়ে যায়। প্রাইভেটকার চালক আবুল খায়েরের অভিযোগ, অধিকাংশ ভুক্তভোগী থানায় গিয়ে কাঙ্ক্ষিত সহায়তা পান না। উল্টো নানা প্রশ্ন ও হয়রানির মুখে অনেকে মামলা করতেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।বাংলাদেশ হালকা মোটরযান চালক-মালিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি সাগর মাহমুদ টিপু বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে রাতের আঁধারে যাত্রীবাহী গাড়িতে হামলা, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে বিদেশফেরত যাত্রীদের বহনকারী গাড়িগুলোকে টার্গেট করা হচ্ছে বেশি।তিনি অভিযোগ করেন, মহাসড়কসংলগ্ন বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁ এলাকায় চাঁদাবাজি ও হয়রানির ঘটনাও বাড়ছে। আবার অনেক সময় ডাকাতদল কৌশলে চালকদেরই দায়ী করে যাত্রীদের কাছে ফাঁসিয়ে দেয়। এতে নিরীহ চালকদেরও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম বলেন, সড়কে নিরাপত্তা জোরদারে সাড়ে নয়শ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা ৭টি প্লাটুন রাতের বেলায় টহল ও পেট্রোল টিম বৃদ্ধি করেছি। দুর্ঘটনা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা নিরলসভাবে কাজ করছে।ঈদে ছিনতাইয়ের ঘটনা যাতে না ঘটে সেজন্য রাতের টিম বৃদ্ধি করা হয়েছে। আপনারা দেখবেন ইদানিংকালে মহাসড়কে ছিনতাইয়ের ঘটনা তেমন নেই। সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।
প্রকাশক ও সম্পাদক :
মোঃ সাইফুল ইসলাম ফয়সাল
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত