হবিগঞ্জ প্রতিনিধি।।
হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের বিরতিহীন এক্সপ্রেস বাস মৌলভীবাজার হয়ে চলাচলে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই জেলার পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছে।এর জেরে শনিবার (২৩ মে) সকাল থেকে হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর ও কামাইছড়া এলাকায় পরিবহন শ্রমিকরা অবস্থান নিয়ে মৌলভীবাজার থেকে ছেড়ে আসা এবং ঢাকা থেকে মৌলভীবাজারগামী বিভিন্ন দূরপাল্লার বাস ফিরিয়ে দেন। এতে আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ঘরমুখো যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল ৭টা থেকে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নিয়ে হানিফ, শ্যামলীসহ বিভিন্ন দূরপাল্লার বাস চলাচলে বাধা দেন। ফলে অনেক যাত্রী মাঝপথে নেমে বিকল্প পরিবহনে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হন। এতে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের।হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের পক্ষে শ্রমিক নেতা ছায়েদ চৌধুরী জানান, সম্প্রতি মৌলভীবাজারে হবিগঞ্জ-সিলেট বিরতিহীন বাস চলাচলে বাধা ও বাস আটকে রাখার ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিভাগীয় কমিশনার বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত অমান্য করে এখনো মৌলভীবাজারের উপর দিয়ে হবিগঞ্জের বিরতিহীন বাস চলাচলে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এর প্রতিবাদে মৌলভীবাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো বাস হবিগঞ্জ হয়ে চলাচল করতে দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক সোহেল চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপনের লোকজন বিরতিহীন বাস চলাচলে বাধা দিয়ে পরিবহন খাতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। তবে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতি হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপ শ্রদ্ধাশীল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।এদিকে, বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরা মিরপুর ও কামাইছড়া এলাকা থেকে অতিরিক্ত ভাড়ায় সিএনজি অটোরিকশা ও অন্যান্য ছোট যানবাহনে গন্তব্যে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে ভোগান্তির পাশাপাশি বাড়ছে যাত্রীদের অতিরিক্ত ব্যয়।
বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উজ্জ্বল রায় জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক :
মোঃ সাইফুল ইসলাম ফয়সাল
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত