তৌহিদ হোসেন সরকার।।
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেছেন, শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন ও প্রকৃত কল্যাণ নিশ্চিত করতে জাতীয় বাজেটের অন্তত ১০ ভাগ শ্রম মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দ দিতে হবে। মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকাল ৪টায় রাজধানীতে শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের হলরুমে নির্মাণ শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, দেশে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আজও নিশ্চিত হয়নি। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার শ্রমিক দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য সংগ্রাম করলেও বাস্তবিক অর্থে তাদের অধিকাংশ দাবিই উপেক্ষিত থেকে গেছে। নির্বাচন এলে রাজনৈতিক দলগুলো শ্রমিকদের কাছে গেলেও ক্ষমতায় যাওয়ার পর শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা খুব কমই দেখা যায়। অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, দেশের প্রচলিত শ্রম আইন ও বিধিমালা এখনো পূর্ণাঙ্গ শ্রমিকবান্ধব নয়। সব শ্রেণির শ্রমিককে সম্পৃক্ত করে তাদের অধিকার নিশ্চিত করার মতো কার্যকর কাঠামো গড়ে ওঠেনি। বিশেষ করে নির্মাণ শ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। দুর্ঘটনায় নিহত বা আহত হলে তাদের পরিবার সামান্য ক্ষতিপূরণ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি কোনো নিরাপত্তা পায় না। তিনি আরও বলেন, শ্রমিক আন্দোলন শুধুমাত্র কাগজে-কলমে সংগঠন গঠনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। অধিকার আদায়ের জন্য গণসচেতনতা তৈরি করতে হবে। যেখানে শ্রমিক নির্যাতনের শিকার হবে, সেখানে শ্রমিক নেতাদের এগিয়ে যেতে হবে। শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোই শ্রমিক সংগঠনের মূল দায়িত্ব। শ্রমিক অঙ্গনের একাংশের নেতৃত্বের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কিছু নেতা শ্রমিকদের পুঁজি করে ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেন। এ ধরনের নেতৃত্ব থেকে বেরিয়ে এসে নিঃস্বার্থভাবে শ্রমিক কল্যাণে কাজ করতে হবে। অন্যথায় শ্রমিকরা নেতৃত্বের প্রতি আস্থা হারাবে। তিনি ট্রেড ইউনিয়নগুলোকে প্রকৃত অর্থে শ্রমিকবান্ধব সংগঠনে পরিণত করার আহ্বান জানান এবং শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, কর্মঘণ্টা নির্ধারণ, আইনি সুরক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান। আসন্ন জাতীয় বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ নতুন শ্রমশক্তি যুক্ত হচ্ছে। গত পাঁচ বছরে প্রায় এক কোটি নতুন শ্রমিক কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করেছে। অথচ জাতীয় বাজেটে শ্রমখাতে বরাদ্দ ১ শতাংশেরও নিচে। এ অবস্থা পরিবর্তনে শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ খাতে বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।
সভায় শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ও নির্মাণ সেক্টরের সভাপতি মো. নুরুল আমিন সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লস্কর মোহাম্মদ তসলিম, এবং প্রগতিশীল নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মো. শহিদুল্লাহ চৌধুরী।নির্মাণ শ্রমিক সেক্টরের সাধারণ সম্পাদক জামিল মাহমুদের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রগতিশীল নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আহমেদ আকাশ, নির্মাণ শ্রমিক সেক্টরের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আতাহার আলী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মো. ইউসুফ আলী, জামালপুর জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি মির্জা আব্দুল মাজেদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
প্রকাশক ও সম্পাদক :
মোঃ সাইফুল ইসলাম ফয়সাল
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত