স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা।।
কুমিল্লায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেই অপহরণ, জোরপূর্বক স্বাক্ষর আদায় ও প্রাণনাশের হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগে মামলা দায়ের হওয়ায় জনমনে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ তিনজনকে আসামি করে দায়ের হওয়া এ মামলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নেমে এসেছে চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক।মামলার বাদী চন্দন কুমার সূত্রধর (পিতা: লক্ষন সূত্রধর) কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এ মামলা দায়ের করেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে ১নং আমলি আদালতের বিচারক মুমিনুল হক বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে মামলাটি আমলে নেন এবং বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় তদন্তের দায়িত্ব সিআইডির ওপর ন্যস্ত করেন।মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে— এনায়েত আলী সুমন (স্বত্বাধিকারী, হোটেল ডায়না), কুতুব উদ্দিন (সেকেন্ড অফিসার, কোতোয়ালি মডেল থানা, কুমিল্লা) এবং নন্দন (এএসআই, একই থানা)। এছাড়া আরও ২-৩ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে, যাদের পরিচয় এখনো উদঘাটিত হয়নি।এজাহারে উঠে এসেছে ভয়াবহ অভিযোগ। গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে ছাতিপট্টি এলাকার সরস্বতী জুয়েলার্সের সামনে থেকে বাদীকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে থানায় নিয়ে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ১৯ লাখ টাকার একটি চেক, স্ট্যাম্প ও সাদা কাগজে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এমনকি তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে।এ ধরনের অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নাম উঠে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, “যেখানে নিরাপত্তার জন্য মানুষ পুলিশের কাছে যায়, সেখানে যদি পুলিশের বিরুদ্ধেই এমন অভিযোগ ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই কুমিল্লাজুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সচেতন মহল দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
অনেকেই মনে করছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আইনের শাসনের প্রতি মানুষের বিশ্বাস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।বর্তমানে মামলাটি সিআইডির তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে, সেদিকেই এখন সবার দৃষ্টি।
প্রকাশক ও সম্পাদক :
মোঃ সাইফুল ইসলাম ফয়সাল
cumillarkhobor33@gmail.com
Saifulcomilla24@gmail.com
01775726679