নিজস্ব সংবাদদাতা।।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের যুবদল নেতা ফরহাদ হাজারীর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী আর কেউ নন, তিনি ফরহাদ হাজারীর বিবাহিত স্ত্রী পিংকি বেগম। অভিযুক্ত ফরহাদ হাজারী বর্তমানে ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।মামলার নথি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী পিংকি বেগম বাদী হয়ে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ফরহাদ হাজারীসহ একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। আরজিতে ফরহাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
সম্প্রতি বাদীর একটি কল রেকর্ড সংবাদকর্মীদের হাতে এসেছে। ওই অডিওতে পিংকি বেগমকে বলতে শোনা যায়, ফরহাদ হাজারী স্বামী হিসেবে তাকে স্বীকৃতি না দিয়ে উল্টো দীর্ঘদিন ধরে তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে আসছেন। পিংকির অভিযোগ, এই নির্যাতনে ফরহাদ হাজারীর পিতা স্থানীয় স্বপন মেম্বারও সরাসরি জড়িত ছিলেন।ভুক্তভোগী পিংকি বেগমের মূল দাবি, তিনি একজন স্ত্রী হিসেবে তার প্রাপ্য সামাজিক মর্যাদা ও অধিকার ফিরে পেতে চান।তিনি জানান,স্বপন মেম্বার প্রভাবশালী হওয়ায় এবং ফরহাদ রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হওয়ায় স্থানীয়ভাবে আমি কোনো বিচার পাচ্ছি না। উল্টো আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ঘটনাটি চৌদ্দগ্রামের কালিকাপুর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অভিযুক্ত পরিবারটি এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষ। সচেতন মহলের মতে, রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব যাই থাকুক না কেন, আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখছে এলাকাবাসী। পিংকি বেগম কি তার স্ত্রীর মর্যাদা ফিরে পাবেন, নাকি প্রভাবশালীদের চাপে বিচার থমকে যাবে এখন সেটিই দেখার বিষয়।
প্রকাশক ও সম্পাদক :
মোঃ সাইফুল ইসলাম ফয়সাল
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত