স্টাফ রিপোর্টার।।
কুমিল্লার পদুয়ারবাজার রেলক্রসিংয়ে বাস-ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় সিঙ্গাপুর থেকে রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে ফোন করে অঝোরে কেঁদেছেন কুমিল্লা-৬ (সদর-সদর দক্ষিণ) আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। এ সময় তিনি দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রকাশ করে ওই এলাকার রেলক্রসিং সমস্যা সমাধানের জন্য মন্ত্রীর কাছে আকুতি জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এই আবেগঘন ফোনালাপের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
সিঙ্গাপুর থেকে রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে ফোন করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথা বলছেন এমপি মনিরুল হক চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
সিঙ্গাপুর থেকে রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমকে ফোন করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথা বলছেন এমপি মনিরুল হক চৌধুরী। রোববার (২২ মার্চ) চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে অবস্থানরত এমপি মনিরুল হক চৌধুরী মুঠোফোনে রেলমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্ত হন। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘এটা কোনো নতুন ঘটনা নয়। গত একশ বছর এই ঘটনা ঘটছে, কেউ বিচার করে না। আমি চেষ্টা করেছি সাধ্যমতো। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে সব কাগজ আছে অ্যাডমিরাল সচিবের কাছে। পদুয়ার বাজারের এই ব্যারিকেড, ম্যাডাম টাকা দিয়েছিল, লুট করে খেয়ে ফেলেছে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়। এই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জন্য ৭৫০ কোটি টাকা দিয়েছিল সাইফুর রহমান। এই কাজটি কমপ্লিট করতে পারে নাই।’দ্রুত দেশে ফেরার কথা জানিয়ে রেলমন্ত্রীকে তিনি বলেন, ‘আমার সব কাগজ আছে। আপনি গিয়ে দেখুন। আমি কালকে ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে, ডাক্তার দেখা হয়ে গেলে আমি কাল রাতেই ফ্লাই করার চেষ্টা করছি। আমার ঘুমানোর জায়গা নাই। এই লাশ দেখতে দেখতে আমি বৃদ্ধ হয়ে গেছি ভাই রবিউল। এই পদুয়ার বাজারে যে রেলের ওপর ধানুয়াই ব্যারিকেড, আপনি... আমি শান্তি পাব জীবনে। আমি কাউকে দিতে পারি নাই। আপনি একটু দেখে আসেন। মির্জা ফখরুলকে একদিন নোয়াখালী যাওয়ার সময় দেখিয়েছিলাম। আপনি একটু দেখে আসেন। আপনি বুঝবেন এই দুইটাই একই জায়গা।’
রেলমন্ত্রীর কাছে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের ভিক্ষা চেয়ে তিনি আরও বলেন, ‘রবিউল, আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুক। আমার নেতারা ওখানে দেখাতে পারবে, আমি তাদেরকে দেখাতে বলেছি। আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুক। আল্লাহ আপনার হায়াত দারাজ করুক। আমি খুব খুশি হলাম। আমি আপনার কাছে ভিক্ষা চাই, এই দুইটার সমাধান আপনি করেন। রবিউল, আপনি মির্জার সাথেও কথা বলতে পারেন। তাকে দুইবার দেখিয়েছি। কি বিভীষিকা... কি মানুষ হয়ে প্রত্যেকদিন দেখতে হয়! আল্লাহ আপনার সাহায্য করুক।’
উল্লেখ্য, রোববার (২২ মার্চ) ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের কুমিল্লার পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড লেভেল ক্রসিংয়ে ঢাকাগামী একটি মেইল ট্রেনের সঙ্গে নোয়াখালীগামী মামুন পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষ হয়। দ্রুতগতির ট্রেনটি বাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার পর্যন্ত ঠেলে নিয়ে যায়। এতে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বাসটির ১২ জন যাত্রী নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ৩ জন নারী ও ২ জন শিশু রয়েছে। দুর্ঘটনার পর রোববার বেলা ১১টার দিকে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও খাদ্যমন্ত্রী আমিনুর রশীদ। পরিদর্শন শেষে তিনি দেশের মহাসড়কের ওপর দিয়ে যাওয়া রেলক্রসিংগুলোতে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দেন। একইসঙ্গে তিনি নিহত প্রত্যেক পরিবারের জন্য মরদেহ বাড়িতে নেয়ার খরচ হিসেবে তাৎক্ষণিক ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়ার কথা জানান এবং আহতদের উন্নত চিকিৎসার আশ্বাস দেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক :
মোঃ সাইফুল ইসলাম ফয়সাল
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত