মহসীন কবির,সিনিয়র স্টাফ রিপোর্ট।।
মৃত ব্যক্তির কবর জিয়ারত করা বা শ্রদ্ধা জানানোকে পছন্দ করি। কিন্তু আমাদের দেশে যেভাবে কারও সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়, সেগুলোকে সমর্থন করি না। কারণ এই দোয়া বা শ্রদ্ধা জানানোর পেছনে অনেকটাই প্রদর্শনেচ্ছা কাজ করে।কবরে যাওয়ার আগেই শতশত ক্যামেরা হাজির করা, নারী-পুরুষের ধাক্কাধাক্কি এগুলো ধর্মীয় দৃষ্টিতে কতটুকু জায়েজ বা না নাজায়েজ সেটা আমার জানা নেই। তবে এগুলোকে খুবই দৃষ্টিকটু মনে হয়।যদিও এই বিষয়গুলো আমাদের দেশ একটা নিয়মে পরিণত হয়েছে। এখন দেখা গেলো সাংবিধানিক উচ্চ পর্যায়ে থাকা ব্যক্তিরা না গেলেও নানা সমালোচনা হতে পারে। তাই আমরা এর বিপক্ষে যেতে পারি না। তবে আমাদের দোয়া বা শ্রদ্ধা নিবেদন যেন লোক দেখানো না হয়।হঠাৎ এসব বিষয় উল্লেখ করার কিছু কারণ আছে।গতকাল ১৮ ফেব্রুয়ারি আমাদের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার আগে মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের শ্রদ্ধা জানাতে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গেছেন। সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্যরাও ছিলেন। সেখান থেকে শেরে বাংলা নগরে বাবা জিয়াউর রহমান ও মা বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানোর বিষয়টি সার্বজনীন। আর তিনি যদি সন্তান হিসেবে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন, তা নিয়ে কিছু বলার নেই৷ সন্তান হিসেবে সম্ভবত নির্বাচনে জয়লাভের রাতেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তাদের কবর জিয়ারত করেছেন। তবে দায়িত্বগ্রহণের আগে কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই জিয়াউর রহমানের সমাধিতে গিয়েছেন। যেখানে মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্যরাও ছিলেন।একজন মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক হিসেবে জিয়াউর রহমান এমন শ্রদ্ধা পেতে পারলে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেওয়া বঙ্গবন্ধু কী সেই সন্মান পেতে পারেন না? আজকের ১৭তম প্রধানমন্ত্রী তো তারই ধারাবাহিকতা। তার মেয়ে দেশের মানুষের সঙ্গে যে ধরনের ব্যবহার করেছেন, মানুষ তো তাকে সে শিক্ষা দিয়েছে।আর বঙ্গবন্ধুর শাসনামল নিয়ে নানা বিতর্ক থাকলেও তিনি কিন্তু একটি দেশ গঠনের নায়ক ছিলেন। তাই দেশের প্রধানমন্ত্রী অন্য কারও কবরে যাওয়ার আগে রাষ্ট্রের স্থপতির কবরেও যাওয়া উচিত। এটা এক ধরনের মহানুভবতার দৃষ্টান্ত হতে পারে।
আর আমাদের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তো এর আগেও টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে গিয়েছিলেন।
খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম বিএনপির নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় থাকতে ২০০৪ সালের ২৭ জানুয়ারি তিনি সেখানে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর কবর জিয়ারত ও ফাতেহা পাঠ করেছেন এবং শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। তখন তিনি ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব।ভিন্নমতের ওপর তার এমন উদ্যোগকে তখন সবাই প্রশংসা করেছেন। আমার দৃষ্টিতে বঙ্গবন্ধু ও জিয়া দুই জনই দেশ গঠনে অবদান রেখেছেন। কেউ কম কেউ বেশি। তাই রাজনৈতিক মতভিন্নতা থাকলেও এই দু'টি মানুষকে দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে রেখে সার্বজনীন করা উচিত ছিলো। যা বিএনপি ও আওয়ামী লীগ করতে পারেনি।একজন উদীয়মান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে গিয়ে তারেক রহমান কী ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবেন? সে প্রশ্ন থাকলো।
প্রকাশক ও সম্পাদক :
মোঃ সাইফুল ইসলাম ফয়সাল
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত