
স্টাফ রিপোর্টার।।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিপক্ষকে অর্ধলাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে নিজের রাজনৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব অক্ষুণ্ণ রাখেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। তিনি পান ১ লাখ ৫৯ হাজার ভোট, আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী ইউসুফ সোহেল পান ১ লাখ ৯ হাজার ভোট। জীবনের পড়ন্ত বেলাতেও ভোটাররা তাকে নিরাশ করেননি; বরং অতীতে এলাকার উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গঠনের স্মৃতি মনে রেখে আবারও তার পক্ষেই ভোট বিপ্লব ঘটান।
নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্বাধীনতার পর কুমিল্লার কোনো আসনে কোনো নেতা এর আগে ৬ বার সংসদ সদস্য হতে পারেননি। সর্বোচ্চ চার থেকে পাঁচবার নির্বাচিত হওয়ার নজির থাকলেও সেই রেকর্ড ভেঙে একক কৃতিত্ব অর্জন করেছেন কায়কোবাদ।
এর মধ্যে কুমিল্লা-১১ ও সাবেক কুমিল্লা-১২ (চৌদ্দগ্রাম) আসন থেকে ৫ বার নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিব। তিনি ৯৬, ২০০৮, ২০১৪’ ২০১৮ ও ২০২৪ সালে নির্বাচিত হন। কুমিল্লা-৭ ও সাবেক কুমিল্লা-৮ (চান্দিনা) আসন থেকে আওয়ামী লীগের অধ্যাপক আলী আশরাফ ৭৩, ৯৬, ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ সালে জয়লাভ করেন। একই আসনে বিভিন্ন দলের হয়ে ড. রেদোয়ান আহমেদ ৮৬, ৯১ ও ২০০১ সালে নির্বাচিত হন। কুমিল্লা-১ ও সাবেক কুমিল্লা-২ (দাউদকান্দি, মেঘনা) আসন থেকে বিএনপির ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ১৯৯১, ৯৬, ২০০১ ও সর্বশেষ ২০২৬ সালে নির্বাচিত হন। কুমিল্লা-২ ও সাবেক কুমিল্লা (হোমনা-তিতাস) আসন থেকে বিএনপির এমকে আনোয়ার ৯১, ৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে নির্বাচিত হন। কুমিল্লা-৬ (সদর) আসন থেকর আওয়ামী লীগের আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮, ২০২৪ সালে জয় পান। কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে আওয়ামী লীগের আব্দুল মতিন খসরু ৯৬, ২০০৮, ১৪ ও ২০ ১৮ সালে নির্বাচিত হন। এছাড়াও কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসন থেকে বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সি ১৯৯১, ৯৬ ও ২০০১ সালে তিন বার নির্বাচিত হন। তারা ছাড়াও কুমিল্লার ১১টি আসন থেকে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। তবে একমাত্র কায়কোবাদই ছয়বার নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী কায়কোবাদ প্রথমবার ১৯৮৬ সালে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য হন। ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে অংশ নিলেও তিনি পরাজিত হন। তবে ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও জাতীয় পার্টি থেকে বিজয়ী হন। পরবর্তীতে বিএনপির মনোনয়নে ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে অষ্টম ও নবম জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালে তিনি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গ্রেনেড হামলা মামলার কারণে তাকে দীর্ঘ সময় বিদেশে নির্বাসনে থাকতে হয়। নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে এবারের নির্বাচনে তিনি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় আবারও সিক্ত হন।