বিশেষ প্রতিবেদন,অনুসন্ধানের রিপোর্ট কুমিল্লা।।
কুমিল্লা নগরীর টমচমব্রিজ থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নের নামে রাতের আঁধারে কেটে ফেলা হয়েছে শতবর্ষীসহ অর্ধশতাধিক গাছ। অথচ এই বৃক্ষ কর্তনের বিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগ, সামাজিক বন বিভাগ, জেলা প্রশাসন কিংবা সিটি কর্পোরেশন কেউই দায় স্বীকার করছে না। অনুমতি ছাড়াই গাছ কাটা হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর। সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জি.এম. মোহাম্মদ কবির জানান, গাছ কাটার কোনো অনুমতি তারা দেননি। সড়ক ও জনপদ বিভাগও বলছে, তারা গাছ কাটার বিষয়ে কিছু জানে না। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী ও সচিব ও গাছ কাটার বিষয়ে অজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।সরেজমিনে দেখা গেছে, কুমিল্লা ইপিজেডের উত্তরাংশ, ঢুলিপাড়া ইসলামী ব্যাংকের সামনের রেইনট্রি গাছ, আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও কেটিসিসি কুমিল্লার সামনের শতবর্ষী গাছ, মেডিকেল সড়কের বটবৃক্ষসহ এক কিলোমিটার এলাকায় অর্ধশতাধিক গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, দিনে যান চলাচল বেশি থাকায় এসব গাছ রাতের বেলায় কাটা হয়েছে।সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আদনান ইবনে হাসান জানান, সড়কটি তাদের মালিকানাধীন হলেও সিটি কর্পোরেশন টেন্ডার করেছে এবং উন্নয়ন কাজ করছে। তবে গাছ কাটার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভায় গাছ কাটার বিষয়টি কেউ উল্লেখ করেনি। এখন বিষয়টি জানার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি। সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন, অবৈধ স্থাপনা রেখে যদি উন্নয়ন কাজ সম্ভব হয়, তবে শতবর্ষী গাছগুলো কেন রক্ষা করা গেল না? দেশের অনেক শহরে গাছ রেখে উন্নয়ন কাজ হয়েছে, কুমিল্লায় তা সম্ভব হলো না কেন—এই প্রশ্ন এখন জনমনে।
প্রকাশক ও সম্পাদক :
মোঃ সাইফুল ইসলাম ফয়সাল
cumillarkhobor33@gmail.com
Saifulcomilla24@gmail.com
01775726679