বরুড়া প্রতিনিধি,কুমিল্লা।।
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার শিকারপুর গ্রাম। গ্রামের মাঠে চাষ হচ্ছে বল সুন্দরী, বারি সুন্দরী ও কাশ্মীরী কুলসহ বিভিন্ন জাতের কুল। কুল চাষে সমৃদ্ধি এসেছে এই গ্রামে। তা ছড়িয়ে পড়ছে পাশের গ্রামে।দিনদিন বাড়ছে কুলের চাষ। সূত্র জানায়, শিকারপুর গ্রামের অনেকে প্রবাসে থাকেন। প্রবাস থেকে ফিরে কয়েকজন কুল চাষে মনোযোগ দিয়েছেন। শিকারপুরের উদ্যোক্তাদের সফলতা দেখে পাশের গ্রামেও কুল চাষ ছড়িয়ে পড়েছে।সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, শীতের সকাল। শীত আর রোদের লজ্জামাখা লুকোচুরি চলছে। কুলের গায়ে মিষ্টি রোদ পড়ে ঝলমলিয়ে উঠছে। শিকারপুরের মাঠে নানা ধরনের কুলের পসরা।গাছের ডালে ডালে ঝুলছে রঙিন কুল। হালকা বাতাসে দুলছে। কুলের ভারে যেন ডাল ভেঙে পড়ছে। সে দৃশ্য দেখে কৃষকের চোখ জুড়াচ্ছে। কয়েকটি পাখিও মিষ্টি ডাক তুলে উড়ে বেড়াচ্ছে।এদিকে কুল তোলায় ব্যস্ত উদ্যোক্তারা। কেউ কুল তুলছেন, কেউ মেপে দিচ্ছেন ক্রেতাকে। ক্রেতা-বিক্রেতা সবাই কাজের ফাঁকে মুখে পুরছেন স্বাদের কুল। হাত আর মুখ দুটোর মধ্যে যেন চলছে প্রতিযোগিতা! শিকারপুর গ্রামের চাষি রমিজ উদ্দিন জানান, ২০ বছর প্রবাসে ছিলেন। দেশে এসে ভাই সুরুজ মিয়ার পরামর্শে কুল চাষ শুরু করেন। তার ভাইও কুল চাষ করছেন। প্রথম বছর ১৮ শতক জমিতে কুলের চাষ করেন। লাভ দেখে আরও ৩২ শতক জমিতে চাষ করেন। অনেকে তাদের কাছে এসে পরামর্শ নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি কুলের সঙ্গে অন্য সবজিও চাষ করছেন। চাষি আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘কুলের জন্য আমাদের গ্রামটি সুপরিচিত। কুল চাষ করে অন্য ফসল থেকে আমরা বেশি লাভ পাচ্ছি। আমরা তিন ভাই ৬০ শতক জমিতে চাষ করেছি। খরচ গেছে দেড় লাখ, বিক্রি হবে ৫ লাখ টাকা। কৃষি অফিসের পরামর্শ মেনে চাষ করায় আমাদের ভালো ফলন হয়েছে। ’ পাশের জয়কামতা গ্রামের জুনাব আলী জানান, তিনি শিকারপুর থেকে চারা এনে লাগিয়েছেন। তিন বছর ধরে কুল চাষ করছেন। প্রথম বছর ২২ শতক, দ্বিতীয় বছর আরও ২২ শতক জমিতে কুলের চাষ করেন। এবার আরও ১৬ শতক জমিতে চাষ করেছেন। পাইকারি ক্রেতা নুরে আলম বলেন, ‘বাগমারা বাজারে আমার ফলের দোকান রয়েছে। পাইকারি কেজি ১১০ টাকা দরে কুল কিনেছি। ১৫০-১৬০ টাকা দরে বিক্রি করব আশা করছি। তাজা ও স্বাদ ভালো হওয়ায় এই কুলের চাহিদা বেশি, বিক্রি করতে সময় লাগে না। ’ উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোলাম সারোয়ার ভূইয়া বলেন, ‘এখানে চার বছর আগে কুলের চাষ শুরু হয়। সুরুজ মিয়া প্রথম চাষ করেন। তাকে দেখে রমিজ উদ্দিন, আবদুর রাজ্জাকসহ অন্য চাষিরাও আগ্রহী হন। প্রথম থেকেই আমরা পরামর্শ দিয়ে তাদের সহযোগিতা করছি। এ গ্রামে এখন ২০ একর জমিতে কুল চাষ হচ্ছে। এ কুলের চাষ পাশের গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে। ’ ভবানীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান বলেন, ‘ইউনিয়নটি মূলত লতি চাষের জন্য বিখ্যাত। সম্প্রতি শিকারপুর, জয়কামতাসহ আশপাশের গ্রামের মাঠে বিভিন্ন ধরনের কুলের চাষ হচ্ছে। কুল চাষ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক :
মোঃ সাইফুল ইসলাম ফয়সাল
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত