
নিজস্ব প্রতিবেদক।।
নতুন বছরের শুরুতেই ভোক্তা পর্যায়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম পুনর্নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। গতকাল ৪ জানুয়ারি বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে জানুয়ারি মাসের জন্য এই নতুন দাম ঘোষণা করা হয়। তবে এই নতুন দাম খুচরা পর্যায়ে কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে সংশয় থাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর তদারকির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
নতুন দামের বিস্তারিত:
বিইআরসি’র ঘোষণা অনুযায়ী, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১,৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১,২৫৩ টাকা। এছাড়া অটোগ্যাসের দামও প্রতি লিটারে ২.৪৮ টাকা বাড়িয়ে ৫৯.৮০ টাকা করা হয়েছে। নতুন এই দর গতকাল (রোববার) সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর হওয়ার কথা।
খুচরা পর্যায়ে বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা:
সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বর্তমান বাজার পরিস্থিতি ও সরবরাহ সংকটের কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, বাজারে গ্যাসের সরবরাহ লাইনে কিছু ঘাটতি রয়েছে। খুচরা পর্যায়ে নির্ধারিত দাম মানা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “নতুন দাম যেন খুচরা পর্যায়ে কার্যকর হয়, সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি। তবে শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়া কঠিন হলেও আমরা জেলা প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করব।”
সাধারণ মানুষের ভোগান্তি:
অভিযোগ রয়েছে যে, বিইআরসি দাম নির্ধারণ করলেও খুচরা বিক্রেতারা অনেক সময় তা মানেন না। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১২ কেজির সিলিন্ডার ১,৫০০ থেকে ১,৮০০ টাকায়ও বিক্রি হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণ গ্রাহকদের দাবি, শুধু দাম নির্ধারণ করলেই হবে না, তা খুচরা বাজারে কার্যকর হচ্ছে কি না সেটিও প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে।
প্রশাসনের পদক্ষেপ:
বিইআরসি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশেও দাম সমন্বয় করতে হয়েছে। কেউ নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নিলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।